৪৯/৭. অধ্যায়ঃ
দুনিয়াতে শাস্তি কার্যকরের জন্য দু‘আ করা অপছন্দনীয়
আল্লাহর শাস্তি নয়, রহমত চাওয়ার শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৬৭৩০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৭৩০
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّعليه وسلم دَخَلَ عَلَى رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِهِ يَعُودُهُ وَقَدْ صَارَ كَالْفَرْخِ . بِمَعْنَى حَدِيثِ حُمَيْدٍ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " لاَ طَاقَةَ لَكَ بِعَذَابِ اللَّهِ " . وَلَمْ يَذْكُرْ فَدَعَا اللَّهَ لَهُ فَشَفَاهُ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে এক রোগীকে সেবা করতে যান। সে ভীষণ কাতর হয়ে পাখির ন্যায় হয়ে গিয়েছিল। হুমায়দ-এর হাদীস-এর অর্থানুযায়ী বর্ণনা করেন, কিন্তু তার হাদীসে আছে যে, “আল্লাহর শাস্তি সহ্য করার মতো সামর্থ্য তোমার নেই” আর এরপর “তিনি আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন এবং আল্লাহ তাকে সুস্থ করলেন” কথাটি তিনি উল্লেখ করেননি।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৫৯৩, ইসলামীক সেন্টারঃ ৬৬৪৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৭৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর এক অসুস্থ সাহাবীকে দেখতে যান। সাহাবী খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, এমনকি পাখির মতো হয়ে গিয়েছিলেন। বর্ণনায় আগের হাদিসের অর্থই এসেছে, তবে এখানে একটি স্পষ্ট বাক্য আছে—“আল্লাহর শাস্তি সহ্য করার মতো সামর্থ্য তোমার নেই।” এই বাক্যটি দোয়ার আদব শেখায়। মানুষ দুর্বল; তাই নিজের ওপর শাস্তি তাড়াতাড়ি চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং আল্লাহর কাছে দুনিয়ার ভালো, আখিরাতের ভালো এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষা চাইতে হয়। এই বর্ণনায় শেষে রোগীর জন্য দোয়া ও সুস্থতার অংশ উল্লেখ নেই, তাই ব্যাখ্যাতেও সেই অংশকে মূল বিষয় করা হয়নি। হাদিসের কেন্দ্রীয় শিক্ষা হলো দোয়ার ভাষা যেন নিরাপদ, বিনয়ী ও কল্যাণমুখী হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর শাস্তি সহ্য করা মানুষের সাধ্যের বিষয় নয়।
- দোয়ার সময় নিজের জন্য কল্যাণ ও নিরাপত্তা চাইতে হয়।
- রোগীর অবস্থা দেখে নবী صلى الله عليه وسلم তাকে দোয়ার সঠিক পথ দেখিয়েছেন।
- বর্ণনার শব্দভেদ থাকলেও মূল শিক্ষা একই থাকে।
