৪৭/৫. অধ্যায়ঃ
আদাম সন্তানের উপর ব্যভিচার ও অন্যান্য বিষয়ের অংশ পরিমিত
চোখ, জিহ্বা ও মনের কামনা থেকে সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ৬৬৪৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৬৪৬
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - وَاللَّفْظُ لإِسْحَاقَ - قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَا رَأَيْتُ شَيْئًا أَشْبَهَ بِاللَّمَمِ مِمَّا قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظَّهُ مِنَ الزِّنَى أَدْرَكَ ذَلِكَ لاَ مَحَالَةَ فَزِنَى الْعَيْنَيْنِ النَّظَرُ وَزِنَى اللِّسَانِ النُّطْقُ وَالنَّفْسُ تَمَنَّى وَتَشْتَهِي وَالْفَرْجُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ أَوْ يُكَذِّبُهُ " . قَالَ عَبْدٌ فِي رِوَايَتِهِ ابْنِ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবু হুরায়রা (রাঃ) যা বলেছেন ‘লামাম’ (আকর্ষণীয় বড় গুনাহ) বিষয়ে তার চেয়ে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ কোন বিষয় আমি দেখিনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তানের উপর ব্যভিচারের যে ভাগ লিখেছেন, নিঃসন্দেহে তা সে পাবে। দুই চোখের ব্যভিচার দেখা, জিভের ব্যভিচার পরস্পর কথোপকথন, মনের ব্যভিচার কামনা-বাসনা করা। আর লজ্জাস্থান তা সত্যায়িত করে অথবা মিথ্যা সাব্যস্ত করে। আব্দুল্লাহ (রহঃ) তাউস-এর বর্ণনায় বলেছেন যে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে শুনেছেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৫১২, ইসলামীক সেন্টারঃ ৬৫৬৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৬৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে লামাম প্রসঙ্গে আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর বর্ণনার সাথে মিল থাকা একটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আল্লাহ আদম সন্তানের উপর ব্যভিচারের যে অংশ লিখেছেন, সে তা পাবে। তারপর তিনি ব্যাখ্যা করেন, দুই চোখের ব্যভিচার হলো দেখা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো কথা বলা, আর মন কামনা-বাসনা করে। শেষে লজ্জাস্থান সেটিকে সত্যায়িত করে অথবা মিথ্যা করে। এই হাদিসে দৃষ্টি সংযম, কথার সতর্কতা এবং মনের কামনা নিয়ে খুব স্পষ্ট শিক্ষা আছে। এখানে শুধু বাহ্যিক কাজ নয়, চোখ, জিহ্বা এবং অন্তরের আকাঙ্ক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই মুসলিম জীবনে দৃষ্টি, কথা ও মনের ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চোখের ভুল ব্যবহার মানুষকে গুনাহের দিকে নিতে পারে।
- জিহ্বার কথা বলাও সতর্কতার বিষয়।
- মন কামনা-বাসনা করে, তাই অন্তরকে সামলানো দরকার।
- শেষে বাস্তব কাজ মানুষকে সেই দিকে নিয়ে যেতে বা ফিরিয়ে রাখতে পারে।
