৪৭/১. অধ্যায়ঃ
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ
বিয়াল্লিশ দিনের পর গর্ভে সৃষ্টি ও তাকদীর লিখন
সহিহ মুসলিম : ৬৬১৯
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৬১৯
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو، بْنُ الْحَارِثِ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، أَنَّ عَامِرَ بْنَ وَاثِلَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، يَقُولُ الشَّقِيُّ مَنْ شَقِيَ فِي بَطْنِ أُمِّهِ وَالسَّعِيدُ مَنْ وُعِظَ بِغَيْرِهِ . فَأَتَى رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَالُ لَهُ حُذَيْفَةُ بْنُ أَسِيدٍ الْغِفَارِيُّ فَحَدَّثَهُ بِذَلِكَ مِنْ قَوْلِ ابْنِ مَسْعُودٍ فَقَالَ وَكَيْفَ يَشْقَى رَجُلٌ بِغَيْرِ عَمَلٍ فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ أَتَعْجَبُ مِنْ ذَلِكَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا مَرَّ بِالنُّطْفَةِ ثِنْتَانِ وَأَرْبَعُونَ لَيْلَةً بَعَثَ اللَّهُ إِلَيْهَا مَلَكًا فَصَوَّرَهَا وَخَلَقَ سَمْعَهَا وَبَصَرَهَا وَجِلْدَهَا وَلَحْمَهَا وَعِظَامَهَا ثُمَّ . قَالَ يَا رَبِّ أَذَكَرٌ أَمْ أُنْثَى فَيَقْضِي رَبُّكَ مَا شَاءَ وَيَكْتُبُ الْمَلَكُ ثُمَّ يَقُولُ يَا رَبِّ أَجَلُهُ . فَيَقُولُ رَبُّكَ مَا شَاءَ وَيَكْتُبُ الْمَلَكُ ثُمَّ يَقُولُ يَا رَبِّ رِزْقُهُ . فَيَقْضِي رَبُّكَ مَا شَاءَ وَيَكْتُبُ الْمَلَكُ ثُمَّ يَخْرُجُ الْمَلَكُ بِالصَّحِيفَةِ فِي يَدِهِ فَلاَ يَزِيدُ عَلَى مَا أُمِرَ وَلاَ يَنْقُصُ " .
‘আমির ইবনু ওয়াসিলাহ্ (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
“দুর্ভাগ্য সে লোক, যে তার মায়ের গর্ভ হতে দুর্ভাগা; আর সৌভাগ্যবান লোক সে, যে অন্যের নিকট হতে উপদেশ লাভ করে।” অতঃপর তিনি রাসূল (ﷺ)-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে একজন সাহাবা, যাঁকে হুযাইফাহ্ ইবনু আসীদ আল গিফারী বলা হয়, তাঁর কাছে আসলেন। তখন তিনি তাঁর নিকট ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর কথা বর্ণনা করলেন এবং বললেন, ‘আমলহীন কোন লোক কিভাবে দুর্ভাগ্যবান হতে পারে?’অতঃপর তিনি [হুযাইফাহ্ (রাঃ)] তাঁকে বললেন, “তুমি কি এতে আশ্চর্য হচ্ছ? আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, যখন (মাতৃগর্ভে) শুক্রকীটের উপর বিয়াল্লিশ দিন চলে যায়, তখন আল্লাহ তা‘আলা একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন। তিনি ওটাকে (শুক্রকে) একটি রূপ দান করে, তার কান, চোখ, চামড়া, গোশ্ত ও হাড় সৃষ্টি করে দেন। তারপর ফেরেশতা বলে, ‘হে আমাদের রব! সেটা কি পুরুষ, না মহিলা হবে?’ তখন তোমার প্রভু যা চান সিদ্ধান্ত দেন এবং ফেরেশতা আদেশ অনুসারে তা লিখে ফেলেন। তারপর সে বলতে থাকে, ‘হে আমাদের রব! তার জীবিকা কি হবে?’ তখন তোমার রব তাঁর মর্জি অনুযায়ী ফায়সালা করেন এবং ফেরেশতা তা লিপিবদ্ধ করেন। এরপর ফেরেশতা তাঁর হাতে একটি লিপিবদ্ধ কিতাব নিয়ে বের হন। সে এটাকে বৃদ্ধিও করে না এবং ঘাটতিও করে না।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৮৫, ইসলামীক সেন্টারঃ ৬৫৩৭
সহিহ মুসলিম হাদিস ৬৬১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে প্রথমে ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর উক্তি এসেছে—দুর্ভাগা সে, যে মায়ের গর্ভ হতে দুর্ভাগা; আর সৌভাগ্যবান সে, যে অন্যের কাছ থেকে উপদেশ নেয়। এরপর হুযাইফাহ ইবনু আসীদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বাণী শুনিয়েছেন। বর্ণনায় আছে, শুক্রকীটের উপর বিয়াল্লিশ দিন গেলে আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান। সে রূপ দান করে, কান, চোখ, চামড়া, গোশত ও হাড়ের সৃষ্টি হয়। তারপর পুরুষ বা মহিলা, আয়ু ও রিজিক আল্লাহর ফায়সালা অনুযায়ী লিখে দেওয়া হয়। হাদিসটি তাকদীরের বিষয়কে আল্লাহর ইচ্ছা ও লিখনের সঙ্গে যুক্ত করে, আর একই সঙ্গে উপদেশ গ্রহণের গুরুত্বও সামনে আনে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উপদেশ গ্রহণ করা সৌভাগ্যের একটি বড় শিক্ষা হিসেবে এসেছে।
- গর্ভে সৃষ্টির ধাপ আল্লাহর আদেশে ঘটে।
- আয়ু ও রিজিক আল্লাহর ফায়সালা অনুযায়ী লিখিত হয়।
- তাকদীরের কথা মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়।
