৪৬/১৪. অধ্যায়ঃ
মু’মিন ব্যক্তি কোন রোগ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদিতে পতিত হলে এমনকি তার গায়ে কাঁটাবিদ্ধ হওয়াও তার সাওয়াব
জ্বরকে গালমন্দ না করার শিক্ষা
সহিহ মুসলিম : ৬৪৬৪
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৪৬৪
حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ الصَّوَّافُ، حَدَّثَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَى أُمِّ السَّائِبِ أَوْ أُمِّ الْمُسَيَّبِ فَقَالَ " مَا لَكِ يَا أُمَّ السَّائِبِ أَوْ يَا أُمَّ الْمُسَيَّبِ تُزَفْزِفِينَ " . قَالَتِ الْحُمَّى لاَ بَارَكَ اللَّهُ فِيهَا . فَقَالَ " لاَ تَسُبِّي الْحُمَّى فَإِنَّهَا تُذْهِبُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ كَمَا يُذْهِبُ الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ " .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন উম্মু সায়িব অথবা উম্মুল মুসাইয়্যাব (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে বললেন, “তোমার কি হয়েছে হে উম্মু সায়িব অথবা উম্মুল মুসাইয়্যাব! কাঁপছ কেন?” তিনি বললেন, “ভীষণ জ্বর, একে আল্লাহ বর্ধিত না করুন।” তখন তিনি বললেন, “তুমি জ্বরকে গালমন্দ করো না। কেননা জ্বর আদম সন্তানের পাপরাশি মোচন করে দেয়, যেভাবে হাঁপর লোহার মরিচিকা দূরীভূত করে।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৩৬, ইসলামীক সেন্টারঃ ৬৩৮৫
সহিহ মুসলিম হাদিস ৬৪৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উম্মু সায়িব বা উম্মুল মুসাইয়্যাব (রাঃ)-এর কাছে যান। তিনি কাঁপছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভীষণ জ্বর, একে আল্লাহ বর্ধিত না করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, জ্বরকে গালমন্দ করো না; কারণ জ্বর আদম সন্তানের পাপরাশি দূর করে, যেমন হাঁপর লোহার মরিচা দূর করে। এখানে জ্বরের কষ্টকে গালমন্দ না করার শিক্ষা এসেছে। তবে জ্বর কামনা করার কথা বলা হয়নি। হাদিসটি রোগের কাফফারা, জ্বরের ফজিলত, পাপ মোচন এবং কষ্টে ধৈর্যের শিক্ষা দেয়। অসুস্থ অবস্থায় ভাষা ও মনোভাব নিয়ন্ত্রণের দিকটিও এতে পরিষ্কার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জ্বর বা রোগকে গালমন্দ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
- জ্বর পাপ মোচনের কারণ হতে পারে—হাদিসে এই উপমা এসেছে।
- অসুস্থ অবস্থায়ও কথা ও মনোভাব নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
- রোগের কষ্টে আল্লাহর ক্ষমার আশা রাখা যায়।
