৪৫/৩৪. অধ্যায়ঃ
হাস্সান ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর ফযিলত
নবীপ্রেম ও সম্মান রক্ষায় হাসান রাঃ-এর জবাব
সহীহ মুসলিম : ৬২৮৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬২৮৭
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ حَسَّانُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فِي أَبِي سُفْيَانَ قَالَ " كَيْفَ بِقَرَابَتِي مِنْهُ " . قَالَ وَالَّذِي أَكْرَمَكَ لأَسُلَّنَّكَ مِنْهُمْ كَمَا تُسَلُّ الشَّعَرَةُ مِنَ الْخَمِيرِ . فَقَالَ حَسَّانُ وَإِنَّ سَنَامَ الْمَجْدِ مِنْ آلِ هَاشِمٍ بَنُو بِنْتِ مَخْزُومٍ وَوَالِدُكَ الْعَبْدُ قَصِيدَتَهُ هَذِهِ .
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হাসান (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাকে আবু সুফিয়ানের তিরস্কার করার অনুমতি দিন। তিনি বললেন, কিভাবে অনুমতি দিব? তার সাথে আমার আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে? তখন তিনি বললেন, সে মহান সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন, আটার খামির হতে যেভাবে চুল আলাদা করে নেয়া হয়, আমি ঠিক সেভাবে আপনাকে আলাদা করে নিব। তারপর হাসান (রাঃ) বললেন: “মান-সম্মান ও আভিজাত্য বনু হাশিমের বংশধরদের মাঝে, বিনতু মাখযুমের সন্তানদের জন্য এবং তোমার পিতা তো দাস ছিল।” এ হলো তার কাসিদাহ (দীর্ঘ কবিতা)।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬১৬৮, ইসলামীক সেন্টারঃ ৬২১২
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬২৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হাসান ইবন সাবিত (রাঃ)-এর নবীপ্রেম এবং কথা বলার আগে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সংবেদনশীলতা বোঝার দিকটি দেখা যায়। তিনি আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে জবাব দিতে অনুমতি চান। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তখন আত্মীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এতে বোঝা যায়, সত্যের পক্ষে কথা বললেও সম্পর্ক, বংশ ও সম্মানের দিক খেয়াল করা দরকার। হাসান (রাঃ) বলেন, তিনি নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-কে তাদের থেকে এমনভাবে আলাদা করবেন, যেমন খামির থেকে চুল আলাদা করা হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, নবীজির সম্মান রক্ষা আবেগের বিষয় হলেও তা জ্ঞান, সতর্কতা ও সীমা মেনে হওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সম্মান রক্ষা করা সাহাবীদের হৃদয়ের বড় বিষয় ছিল।
- কথার জবাব দেওয়ার সময় আত্মীয়তা ও সম্মানের সীমা খেয়াল রাখা দরকার।
- সত্যের পক্ষে কথা বললেও তা জ্ঞান ও সতর্কতার সঙ্গে হওয়া উচিত।
- মুমিনের ভাষা আবেগী হলেও তা নিয়ন্ত্রিত ও উদ্দেশ্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
