৪৫/১৫. অধ্যায়ঃ
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর ফযিলত
ফাতিমা (রাঃ)-এর সম্মান ও আলী (রাঃ)-এর প্রস্তাব প্রত্যাহার
সহীহ মুসলিম : ৬২০৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬২০৪
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ خَطَبَ بِنْتَ أَبِي جَهْلٍ وَعِنْدَهُ فَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا سَمِعَتْ بِذَلِكَ فَاطِمَةُ أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ لَهُ إِنَّ قَوْمَكَ يَتَحَدَّثُونَ أَنَّكَ لاَ تَغْضَبُ لِبَنَاتِكَ وَهَذَا عَلِيٌّ نَاكِحًا ابْنَةَ أَبِي جَهْلٍ . قَالَ الْمِسْوَرُ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَسَمِعْتُهُ حِينَ تَشَهَّدَ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أَنْكَحْتُ أَبَا الْعَاصِ بْنَ الرَّبِيعِ فَحَدَّثَنِي فَصَدَقَنِي وَإِنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ مُضْغَةٌ مِنِّي وَإِنَّمَا أَكْرَهُ أَنْ يَفْتِنُوهَا وَإِنَّهَا وَاللَّهِ لاَ تَجْتَمِعُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ وَبِنْتُ عَدُوِّ اللَّهِ عِنْدَ رَجُلٍ وَاحِدٍ أَبَدًا " . قَالَ فَتَرَكَ عَلِيٌّ الْخِطْبَةَ .
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) নাবী-তনয় ফাতিমাকে ঘরে রেখেই আবূ জাহ্লের কন্যাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ফাতিমা (রাঃ) যখন এ খবর শুনলেন তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন, লোকেরা কথোপকথন করে যে, আপনি আপনার কন্যাদের সম্বন্ধে রাগ প্রকাশ করেন না। আর এই যে, ‘আলী (রাঃ) আবূ জাহ্লের কন্যাকে বিবাহ করতে যাচ্ছেন।মিসওয়ার (রাঃ) বললেন, তখন নবী (ﷺ) দাঁড়ালেন। এ সময় আমি শুনলাম, তিনি তাশাহুদ পড়লেন এবং বললেনঃ আবূল ‘আস ইবনু রবী‘র নিকট বিয়ে দিয়েছি, সে আমাকে যা বলেছে তা বাস্তবে পরিণত করেছে। আর মুহাম্মাদ কন্যা ফাতিমা আমারই একটা টুকরা, আমি অপছন্দ করি যে, লোকে তাঁকে ফিতনায় ফেলুক। আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রাসূলের মেয়ে ও আল্লাহর শত্রুর মেয়ে কোন লোকের নিকট কক্ষনো একসাথে মিলিত হতে পারে না। মিসওয়ার (রাঃ) বলেন, তারপর ‘আলী (রাঃ) প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬০৮৯, ইসলামীক সেন্টারঃ ৬১২৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬২০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ)-কে ঘরে রেখেই আবু জাহলের কন্যাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। ফাতিমা (রাঃ) খবর শুনে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আসেন এবং বলেন, লোকেরা বলে আপনি কন্যাদের বিষয়ে রাগ প্রকাশ করেন না, অথচ আলী আবু জাহলের কন্যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। তখন রাসূল صلى الله عليه وسلم দাঁড়িয়ে তাশাহুদ পড়ে খুতবা দেন। তিনি আবুল আস ইবনু রবী‘-এর ওয়াদা পালনের প্রশংসা করেন এবং বলেন, ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ তাঁরই অংশ; তিনি অপছন্দ করেন যে তাঁকে ফিতনায় ফেলা হোক। এরপর বলেন, আল্লাহর রাসূলের মেয়ে ও আল্লাহর শত্রুর মেয়ে একজন পুরুষের কাছে একত্র হতে পারে না। মিসওয়ার (রাঃ) জানান, এরপর আলী (রাঃ) প্রস্তাব ছেড়ে দেন। হাদিসটি ফাতিমা (রাঃ)-এর সম্মান, কন্যার কষ্টের গুরুত্ব এবং কথা রাখার মূল্য তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফাতিমা (রাঃ)-এর কষ্ট রাসূল صلى الله عليه وسلم গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।
- রাসূল صلى الله عليه وسلم খুতবার শুরুতে তাশাহুদ পড়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেন।
- আবুল আসের ওয়াদা পালনের প্রশংসা করা হয়েছে।
- শেষে আলী (রাঃ) প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন—এটিই বর্ণনায় এসেছে।
