৩/১০. অধ্যায়ঃ
অপবিত্রতার গোসলে কতটুকু পরিমাণ পানি ব্যবহার মুস্তাহাব, পুরুষ এবং মেয়েলোক একই অবস্থায় একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করা এবং তাদের উভয়ের মধ্যে একজনের অবশিষ্ট পানি দিয়ে অপরজনের গোসল করার বর্ণনা।
এক ফারাক পানিতে জানাবাতের গোসলের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৬১৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬১৩
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْتَسِلُ مِنْ إِنَاءٍ هُوَ الْفَرَقُ مِنَ الْجَنَابَةِ .
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ফারাক (সাড়ে সাত কেজি) পরিমাণ পাত্রের পানি দিয়ে অপবিত্রতার গোসল করতেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬১৭, ইসলামীক সেন্টারঃ ৬৩২[৮৪] ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন ঃ ওযূ এবং গোসলের জন্য পানির পরিমাণ নির্ধারিত নেই। কারণ কোন রিওয়ায়াতে গোসলের জন্য এক ফারাক (সাড়ে সাত কেজি) কোন রিওয়ায়াতের তিন মুদ। কাযী আয়ায (রহঃ) বলেন, এ রিওয়ায়াতের মুদের অর্থ ‘সা’ (আড়াই কেজি) তা হলে উভয় রিওয়ায়াতের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে। অপর এক রিওয়ায়াতে বর্ণিত হচ্ছে যে, ‘আয়িশাহ(রাঃ) এক সা পানি দ্বারা গোসল করেছেন। অপর এক রিওয়ায়াতে পাঁচ মাককুফ গোসলের জন্য আর ওযূর জন্য এক মাককুফ, এ রিওয়ায়াতে মাককুফের দ্বারা মুদ উদ্দেশ্য করা হয়েছে আর মুদের পরিমাণ ১১ ছটাক। অন্য এক রিওয়ায়াতে গোসলের জন্য ‘সা’ এবং ওযূর জন্য এক মুদের বর্ণনা করেছেন। অন্য আর এক রিওয়ায়াতে ওযূর জন্য এক মুদ এবং গোসলের জন্য এক সা থেকে পাঁচ মুদ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। সুতরাং ইমাম শাফিঈ এবং অন্যান উলামায়ি কিরাম বলেন, রিওয়ায়াতেরর এ মতপার্থক্যের দ্বারা বুঝা যায় যে, স্থান, কাল, পাত্র কিংবা অবস্থা ভেদে পানি কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। তবে শর্ত হচ্ছে যাতে ওযূর অঙ্গসমূহ এবং গোসলের জন্য শরীরের কোন স্থানে শুকনা না থাকে ভালভাবে ভিজে যায় বরং একটি পশমের গোড়াও যেন শুকনা না থাকে কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা সমীচীন নয়। এমন কি নদীর কিনারায় বসে ওযূ কিংবা গোসল করলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা যাবে না। (নাবাবী)
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জানাবাতের গোসলে ব্যবহৃত পানির পরিমাণ নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা এসেছে। আয়িশা (রাঃ) জানান, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এক ফারাক পরিমাণ পাত্রের পানি দিয়ে অপবিত্রতার গোসল করতেন। এখানে গোসলের ধাপ নয়, বরং পানি ব্যবহারের পরিমাণটি মূল বিষয়। তাই “গোসলের পানির পরিমাণ”, “এক ফারাক পানি”, “জানাবাতের গোসল” — এসব শব্দ এই হাদিসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। হাদিসটি দেখায়, গোসলের জন্য অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করাই মূল লক্ষ্য নয়; বরং নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতেও গোসল সম্পন্ন হতো। তবে এই বর্ণনায় ফারাকের বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই; পরের বর্ণনায় এর পরিমাণ সম্পর্কে অতিরিক্ত কথা এসেছে। এই হাদিস পানি ব্যবহারে সহজতা ও সংযমের একটি নববী ছবি তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জানাবাতের গোসলে পানির পরিমাণের বর্ণনা আছে।
- নবীজি صلى الله عليه وسلم এক ফারাক পাত্রের পানি দিয়ে গোসল করতেন।
- গোসলের ক্ষেত্রে পানি ব্যবহারে সংযম বোঝা যায়।
- এখানে গোসলের ধাপ নয়, পরিমাণ মূল বিষয়।
