৪৪/৪০. অধ্যায়ঃ
‘ঈসা (আঃ)এর ফযীলত
নবজাতক, শয়তানের স্পর্শ ও আল্লাহর আশ্রয়
সহিহ মুসলিম : ৬০২৭
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬০২৭
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنْ مَوْلُودٍ يُولَدُ إِلاَّ نَخَسَهُ الشَّيْطَانُ فَيَسْتَهِلُّ صَارِخًا مِنْ نَخْسَةِ الشَّيْطَانِ إِلاَّ ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ " . ثُمَّ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ { وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ}
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এমন কোন নবভূমিষ্ঠ সন্তান নেই যাকে শয়তান স্পর্শ করে না। আর সে নবজাত সন্তান শয়তানের স্পর্শে কান্নাকাটি শুরু করে, কেবল মারিয়াম পুত্র এবং তাঁর মা ব্যতীত। তারপর আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তোমাদের ইচ্ছা হলে পড়ো: “অবশ্যই আমি অভিশপ্ত শয়তান থেকে তাঁর ও তাঁর বংশধরদের জন্য তোমার শরণাপন্ন হচ্ছি”–(সূরা আলে ইমরান ৩:৩৬)।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৫৯২১, ইসলামীক সেন্টারঃ ৫৯৫৯
সহিহ মুসলিম হাদিস ৬০২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবজাতক ও শয়তানের স্পর্শ সম্পর্কে একটি গায়েবি বিষয় জানানো হয়েছে। রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, প্রত্যেক নবভূমিষ্ঠ সন্তানকে শয়তান স্পর্শ করে, আর সেই স্পর্শের কারণে সে কান্না শুরু করে। তবে মারিয়াম (আঃ) ও তাঁর পুত্র ঈসা (আঃ) এই সাধারণ অবস্থার বাইরে ছিলেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) এ কথার সঙ্গে সূরা আলে ইমরানের দোয়ার অংশ পাঠ করতে বলেছেন, যেখানে মারিয়ামের মা আল্লাহর কাছে তাঁর সন্তান ও বংশধরদের জন্য অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় চান। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সন্তান জন্ম, পরিবার ও বংশধরের নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া মুমিনের অন্তরের কাজ। এখানে নবজাতকের কান্নাকে শুধু বাহ্যিক ঘটনা হিসেবে নয়, শয়তানের স্পর্শের সঙ্গে যুক্ত একটি গায়েবি বিষয় হিসেবেও বোঝানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল।
- শয়তানের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দোয়ার শিক্ষা এই হাদিসে আছে।
- মারিয়াম (আঃ) ও ঈসা (আঃ)-এর জন্য আল্লাহর বিশেষ নিরাপত্তার কথা এখানে এসেছে।
- নবজাতকের কান্না সম্পর্কে হাদিসে গায়েবি একটি কারণ জানানো হয়েছে।
