৪৪/৩৭. অধ্যায়ঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে সম্মান প্রদর্শন করা এবং অকারণে বেশি প্রশ্ন করা বা কষ্ট দেয়া ও অবাঞ্চিত ইত্যাদি বিষয় থেকে বিরত থাকা
ফিতনা থেকে আশ্রয় ও প্রশ্নের সীমা নিয়ে হাদিস
সহিহ মুসলিম : ৬০১৭
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬০১৭
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ حَمَّادٍ الْمَعْنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّاسَ، سَأَلُوا نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَحْفَوْهُ بِالْمَسْأَلَةِ فَخَرَجَ ذَاتَ يَوْمٍ فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ فَقَالَ " سَلُونِي لاَ تَسْأَلُونِي عَنْ شَىْءٍ إِلاَّ بَيَّنْتُهُ لَكُمْ " . فَلَمَّا سَمِعَ ذَلِكَ الْقَوْمُ أَرَمُّوا وَرَهِبُوا أَنْ يَكُونَ بَيْنَ يَدَىْ أَمْرٍ قَدْ حَضَرَ . قَالَ أَنَسٌ فَجَعَلْتُ أَلْتَفِتُ يَمِينًا وَشِمَالاً فَإِذَا كُلُّ رَجُلٍ لاَفٌّ رَأْسَهُ فِي ثَوْبِهِ يَبْكِي فَأَنْشَأَ رَجُلٌ مِنَ الْمَسْجِدِ كَانَ يُلاَحَى فَيُدْعَى لِغَيْرِ أَبِيهِ فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَنْ أَبِي قَالَ " أَبُوكَ حُذَافَةُ " . ثُمَّ أَنْشَأَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه فَقَالَ رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً عَائِذًا بِاللَّهِ مِنْ سُوءِ الْفِتَنِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ قَطُّ فِي الْخَيْرِ وَالشَّرِّ إِنِّي صُوِّرَتْ لِيَ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَرَأَيْتُهُمَا دُونَ هَذَا الْحَائِطِ " .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করতে লাগল। এমনকি তারা তাঁকে প্রশ্ন করে জর্জরিত করে ফেলল। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে এসে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বললেনঃ আমাকে প্রশ্ন করো, যে কোন ব্যাপারে তোমরা আমাকে প্রশ্ন করবে, আমি অবশ্যই তোমাদের নিকট তা বর্ণনা করে দিব। লোকেরা এ কথা শুনে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হতে মুখ বন্ধ রাখল এবং ঘাবড়িয়ে গেল, না জানি সামনে কোন ঘটনা সামনে এসে পড়ে। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি ডানে বামে দেখতে লাগলাম। সকল লোক স্ব স্ব মাথা আবৃত করে কান্নাকাটি করছিল। তখন মসজিদ হতে জনৈক ব্যক্তি উঠল যার সাথে ঝগড়া লাগলে তাঁর পিতা ছাড়া অন্যের দিকে তাকে সম্পর্কিত করা হতো। সে বলল, হে আল্লাহর নবী! কে আমার পিতা? তিনি বললেন, তোমার পিতা হুযাফা।তারপর উমর (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, (আমরা আন্তরিকতার সাথে) আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মদ (ﷺ)-কে রাসূল হিসেবে মেনে নিলাম। আর আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি ফিতনার অকল্যাণ থেকে। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আজকের মতো ভাল এবং খারাপ আমি কখনো দেখিনি। আমার সামনে জান্নাত ও জাহান্নামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তাই আমি উভয়টিকে এ দেয়ালের পাশে দেখতে পাই।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৫৯১১, ইসলামীক সেন্টারঃ ৫৯৪৯
সহিহ মুসলিম হাদিস ৬০১৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এসেছে, লোকেরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে এত বেশি প্রশ্ন করছিল যে তাঁকে প্রশ্নে জর্জরিত করে ফেলেছিল। একদিন তিনি মিম্বারে দাঁড়িয়ে বললেন, তোমরা যা জিজ্ঞেস করবে, তিনি তা জানিয়ে দেবেন। তখন লোকেরা ভয় পেয়ে চুপ হয়ে গেল এবং কান্না করতে লাগল। এক ব্যক্তি নিজের পিতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তাঁকে উত্তর দেওয়া হয়। এরপর উমর (রাঃ) দাঁড়িয়ে বলেন, আমরা আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-কে রাসূল হিসেবে মেনে নিয়েছি, আর ফিতনার অকল্যাণ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। পরে রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেন, তাঁর সামনে জান্নাত ও জাহান্নামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। হাদিসটি বেশি প্রশ্নের ক্ষতি, ফিতনা থেকে আশ্রয় এবং আখিরাতের ভয় শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বেশি প্রশ্ন কখনো ভয় ও অস্থিরতার কারণ হতে পারে।
- ফিতনার অকল্যাণ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া উচিত।
- ঈমানি স্বীকৃতি কঠিন মুহূর্তে অন্তরকে স্থির করে।
- জান্নাত ও জাহান্নামের স্মরণ মানুষকে সতর্ক করে।
