৪৪/১৩. অধ্যায়ঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বোত্তম চরিত্রবান ছিলেন
কোমল আচরণ: দোষারোপ না করার নববী শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৫৯০৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৯০৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، حَدَّثَنِي سَعِيدٌ، - وَهُوَ ابْنُ أَبِي بُرْدَةَ - عَنْ أَنَسٍ، قَالَ خَدَمْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تِسْعَ سِنِينَ فَمَا أَعْلَمُهُ قَالَ لِي قَطُّ لِمَ فَعَلْتَ كَذَا وَكَذَا وَلاَ عَابَ عَلَىَّ شَيْئًا قَطُّ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নয় বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সেবা করেছি। আমার জানা নেই, তিনি কখনো আমায় বলেছেন, কেন তুমি এ কাজ করলে? এবং কোন ব্যাপারে আমাকে কখনো দোষারোপও করেননি।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৫৮০৮, ইসলামীক সেন্টারঃ ৫৮৪৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৯০৮-এর সারসংক্ষেপ
আনাস (রা.) বলেন, তিনি নয় বছর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সেবা করেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি মনে করতে পারেন না যে, নবীজি কখনো তাকে বলেছেন, ‘কেন তুমি এ কাজ করলে?’ এমনকি কোনো বিষয়ে তাকে দোষারোপও করেননি। এই বর্ণনা খুব ছোট হলেও এর শিক্ষা গভীর। এখানে নবীজির উত্তম চরিত্র, ধৈর্য এবং মানুষের সঙ্গে নরম আচরণের ছবি স্পষ্ট। অনেক সময় আমরা ছোট ভুল দেখলেই তিরস্কার করি, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আচরণ ছিল ভিন্ন। তিনি মানুষের মর্যাদা রাখতেন এবং অপ্রয়োজনীয় দোষারোপ করতেন না। এই হাদিস পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্র এবং নেতৃত্ব—সব জায়গায় প্রযোজ্য। ভালো আচরণ শুধু মুখের কথা নয়; দীর্ঘ সময়ের ব্যবহারেই তা বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অপ্রয়োজনীয় দোষারোপ না করা উত্তম চরিত্রের একটি সুন্দর দিক।
- দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও ধৈর্য ধরে নরম আচরণ করা নবীজির আদর্শ।
- মানুষকে শুধরানোর পথে কোমলতা অনেক সময় কঠোরতার চেয়ে বেশি ফলদায়ক হয়।
