৪৪/৩. অধ্যায়ঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মু‘জিযা প্রসঙ্গ
তাবুকের প্রস্রবণে পানির বরকত ও আনুগত্যের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৫৮৪১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৮৪১
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، - وَهُوَ ابْنُ أَنَسٍ - عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، أَنَّ أَبَا الطُّفَيْلِ، عَامِرَ بْنَ وَاثِلَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ أَخْبَرَهُ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ غَزْوَةِ تَبُوكَ فَكَانَ يَجْمَعُ الصَّلاَةَ فَصَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا حَتَّى إِذَا كَانَ يَوْمًا أَخَّرَ الصَّلاَةَ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ دَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ بَعْدَ ذَلِكَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا ثُمَّ قَالَ " إِنَّكُمْ سَتَأْتُونَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ عَيْنَ تَبُوكَ وَإِنَّكُمْ لَنْ تَأْتُوهَا حَتَّى يُضْحِيَ النَّهَارُ فَمَنْ جَاءَهَا مِنْكُمْ فَلاَ يَمَسَّ مِنْ مَائِهَا شَيْئًا حَتَّى آتِيَ " . فَجِئْنَاهَا وَقَدْ سَبَقَنَا إِلَيْهَا رَجُلاَنِ وَالْعَيْنُ مِثْلُ الشِّرَاكِ تَبِضُّ بِشَىْءٍ مِنْ مَاءٍ - قَالَ - فَسَأَلَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ مَسَسْتُمَا مِنْ مَائِهَا شَيْئًا " . قَالاَ نَعَمْ . فَسَبَّهُمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ لَهُمَا مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ - قَالَ - ثُمَّ غَرَفُوا بِأَيْدِيهِمْ مِنَ الْعَيْنِ قَلِيلاً قَلِيلاً حَتَّى اجْتَمَعَ فِي شَىْءٍ - قَالَ - وَغَسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهِ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ ثُمَّ أَعَادَهُ فِيهَا فَجَرَتِ الْعَيْنُ بِمَاءٍ مُنْهَمِرٍ أَوْ قَالَ غَزِيرٍ - شَكَّ أَبُو عَلِيٍّ أَيُّهُمَا قَالَ - حَتَّى اسْتَقَى النَّاسُ ثُمَّ قَالَ " يُوشِكُ يَا مُعَاذُ إِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةٌ أَنْ تَرَى مَا هَا هُنَا قَدْ مُلِئَ جِنَانًا " .
মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাবুক যুদ্ধের বছর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে (যুদ্ধে) বের হলাম। (এ সফরে) তিনি দুই রাকাত সালাত একসাথে আদায় করতেন। অর্থাৎ, যুহর ও আসর একসাথে আদায় করতেন, আর মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। পরিশেষে একদিন (এমন) হলো যে, সালাত দেরিতে আদায় করলেন।তারপর বের হয়ে এসে যুহর ও আসর একসাথে আদায় করলেন, তারপর (তাঁবুতে) ঢুকলেন। অতঃপর আবার বেরিয়ে এলেন এবং মাগরিব ও ইশা একসাথে আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, “ইনশাআল্লাহ তোমরা আগামীকাল তাবুক জলাশয়ে পৌঁছবে, তবে চাশতের সময় না হওয়া পর্যন্ত তোমরা সেখানে পৌঁছতে পারবে না। তোমাদের মাঝে যে সেখানে (প্রথমে) পৌঁছবে সে যেন তার পানির কিছুই স্পর্শ না করে- যতক্ষণ না আমি এসে পৌঁছি।”আমরা (ঠিক সময়েই) সেখানে পৌঁছলাম। (কিন্তু) ইতোমধ্যে দুইজন আমাদের পূর্বে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল। আর প্রস্রবণটিতে জুতার ফিতার ন্যায় ক্ষীণ ধারায় সামান্য পানি বের হচ্ছিল। মু’আয (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ দুইজনকে প্রশ্ন করলেন, “তোমরা তা হতে কিছু পানি ছুঁয়েছো কি?”তারা উভয়ে বলল, “হ্যাঁ!” তখন নবী (ﷺ) তাদের দুইজনকে ভর্ৎসনা করলেন। আর আল্লাহর যা ইচ্ছা তাই তাদের বললেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকেরা তাদের হাত দিয়ে অঞ্জলি ভরে ভরে প্রস্রবণ হতে অল্প অল্প করে (পানি) তুলল, পরিশেষে তা একটি পাত্রে কিছু পরিমাণ জমা হলো।বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার মাঝে তাঁর দুইহাত এবং মুখ ধুলেন এবং তারপরে তা (পানি) তাতে (প্রস্রবণে) উল্টিয়ে (ঢেলে) দিলেন। ফলে পানির প্রসবণটি প্রবল পানি ধারায় কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেন, অধিক পরিমাণে প্রবাহিত হতে লাগল। আবু আলী (রহঃ) সন্দেহ করেছেন যে, বর্ণনাকারী এর মধ্যে কোনটি বলেছেন। এবার লোকেরা প্রয়োজন মতো পানি পান করল।পরে নবী (ﷺ) বললেন, “হে মু’আয! তুমি যদি দীর্ঘায়ু হও, তবে আশা করা যায় যে, তুমি দেখতে পাবে প্রস্রবণের এ জায়গাটি বাগানে ভরে গেছে।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৫৭৪৮, ইসলামীক সেন্টারঃ ৫৭৭৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৮৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে তাবুক যুদ্ধের সফরের কয়েকটি বিষয় এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) সফরে যুহর-আসর এবং মাগরিব-ইশা একত্রে আদায় করতেন। তিনি সাহাবীদের তাবুকের জলাশয় সম্পর্কে আগেই জানালেন এবং বললেন, তিনি না আসা পর্যন্ত কেউ পানি স্পর্শ করবে না। কিন্তু দুইজন আগে পৌঁছে পানি ছুঁয়ে ফেলে। নবীজী তাদের ভর্ৎসনা করেন। এরপর অল্প অল্প পানি তুলে একটি পাত্রে জমা করা হয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাতে হাত ও মুখ ধুয়ে পানি আবার প্রস্রবণে ঢেলে দেন। ফলে প্রস্রবণ প্রবল বা অধিক পানিতে প্রবাহিত হয় এবং লোকেরা প্রয়োজন মতো পানি পান করে। এখানে “তাবুক”, “পানির বরকত” ও “নবীজীর নির্দেশ মানা”—তিনটি শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে প্রয়োজন হলে সালাত একত্রে আদায়ের ঘটনা হাদিসে এসেছে।
- নবীজীর নির্দেশ অমান্য করলে তা ভর্ৎসনার কারণ হয়েছে।
- অল্প পানি আল্লাহর ইচ্ছায় অনেকের প্রয়োজন পূরণ করেছে।
- আল্লাহর দান ও নবীজীর নিদর্শন সাহাবীরা প্রত্যক্ষ করেছেন।
