৪১/৩. অধ্যায়ঃ
আল-‘আব্দ, আল-আমাত (দাস-দাসী) এবং আল-মাওলা, আস-সাইয়্যিদ শব্দসমূহ ব্যবহারের বিধান
মাওলা আল্লাহ: সম্বোধনে তাওহীদের শিক্ষা
সহিহ মুসলিম : ৫৭৬৯
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৭৬৯
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، كِلاَهُمَا عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَفِي حَدِيثِهِمَا " وَلاَ يَقُلِ الْعَبْدُ لِسَيِّدِهِ مَوْلاَىَ " . وَزَادَ فِي حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ " فَإِنَّ مَوْلاَكُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ " .
আ’মাশ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবু বকর ইবনু আবু শাইবা, আবু কুরায়ব ও আবু সা’ঈদ আশাজ (রহঃ) ... আ’মাশ (রহঃ) হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁদের উভয়ের বর্ণনাতে রয়েছে, গোলাম তার সাইয়্যিদ ও মনিবকে ‘আমার মাওলা’ বলবে না। এবং (প্রথম সূত্রের) বর্ণনাকারী আবু মু’আবিয়া (রহঃ) এর বর্ণিত হাদিসে বর্ধিত উল্লেখ করেছেন যে, ‘কারণ, তোমাদের মাওলা হলেন আল্লাহ’।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৫৬৮০, ইসলামীক সেন্টারঃ ৫৭১১
সহিহ মুসলিম হাদিস ৫৭৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আগের হাদিসের একই মূল শিক্ষা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, গোলাম যেন তার সাইয়্যিদ বা মনিবকে “আমার মাওলা” না বলে। বর্ণনায় আরও এসেছে, “কারণ, তোমাদের মাওলা হলেন আল্লাহ।” এই কথাটি খুব গভীর অর্থ বহন করে। মানুষের মধ্যে কর্তৃত্ব, দায়িত্ব বা সেবা সম্পর্ক থাকতে পারে; কিন্তু প্রকৃত আশ্রয়দাতা ও মালিক আল্লাহ। তাই কথার মধ্যে এমন শব্দ ব্যবহার করার সময় সতর্কতা দরকার, যা আল্লাহর বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে জড়িত। হাদিসটি ইসলামে ভাষার আদব, তাওহীদের সম্মান এবং বিনয়ের শিক্ষা দেয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শব্দ শুধু উচ্চারণ নয়, অনেক সময় তা বিশ্বাসের অনুভবও প্রকাশ করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মনিবকে “আমার মাওলা” বলা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা এসেছে।
- প্রকৃত মাওলা ও আশ্রয়দাতা আল্লাহ—এ কথা মনে রাখা দরকার।
- মানুষের মর্যাদা ও আল্লাহর মর্যাদার মধ্যে ভাষায় পার্থক্য রাখা উচিত।
- শব্দ ব্যবহারে তাওহীদের ভাব বজায় রাখা ইসলামী আদবের অংশ।
