৩৯/২. অধ্যায়ঃ
মন্দ নাম এবং নাফি’ ইত্যাদি শব্দে নাম রাখা মাকরূহ
কিছু নাম নিষেধের ইচ্ছা ও পরে নীরব থাকা
সহীহ মুসলিম : ৫৪৯৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৪৯৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ أَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَنْهَى عَنْ أَنْ يُسَمَّى بِيَعْلَى وَبِبَرَكَةَ وَبِأَفْلَحَ وَبِيَسَارٍ وَبِنَافِعٍ وَبِنَحْوِ ذَلِكَ ثُمَّ رَأَيْتُهُ سَكَتَ بَعْدُ عَنْهَا فَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا ثُمَّ قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَنْهَ عَنْ ذَلِكَ ثُمَّ أَرَادَ عُمَرُ أَنْ يَنْهَى عَنْ ذَلِكَ ثُمَّ تَرَكَهُ .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইয়া’লা, বারাকাহ, আফলাহ, ইয়াসার ও নাফি ইত্যাদি এ রকম নাম রাখা বারণ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। অতঃপর তাঁকে আমি লক্ষ্য করলাম যে, এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চুপ রইলেন, কিছু বললেন না। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে উঠিয়ে নেয়া হলো এবং তিনি তা (শক্তভাবে) বারণ করেননি। পরে উমর (রাঃ) তা বারণ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন, তারপর তিনিও তা পরিত্যাগ করেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৫৪১৮, ইসলামীক সেন্টারঃ ৫৪৪০
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৪৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ইয়ালা, বারাকাহ, আফলাহ, ইয়াসার, নাফি এবং এ ধরনের নাম নিষেধ করার ইচ্ছা করেছিলেন। পরে দেখা গেল, তিনি এ বিষয়ে নীরব থাকলেন এবং কিছু বললেন না। এরপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ইন্তেকাল করেন, কিন্তু তিনি তা শক্তভাবে নিষেধ করেননি। পরে উমর (রাঃ)-ও এ বিষয়ে নিষেধ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনিও তা ছেড়ে দেন। এই বর্ণনায় নামকরণ বিষয়ে সূক্ষ্ম সতর্কতা আছে, আবার নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেষ অবস্থার কথাও আছে। তাই ব্যাখ্যায় ভারসাম্য জরুরি। আগের বর্ণনাগুলোতে কিছু নামের নিষেধ এসেছে, আর এখানে বোঝা যায়—কিছু নামের ব্যাপারে বিষয়টি কঠোরভাবে শেষ করা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কিছু নাম নিয়ে নবী صلى الله عليه وسلم সতর্কতা দেখিয়েছিলেন।
- সব ইচ্ছাকৃত নিষেধ শেষ পর্যন্ত কার্যকর নিষেধ হিসেবে আসেনি।
- নামকরণ বিষয়ে বর্ণনাগুলো একসঙ্গে বুঝতে হয়।
