৩৮/৯. অধ্যায়ঃ
অহমিকার বশে (গিরার নীচে) বস্ত্র ঝুলিয়ে রাখা নিষিদ্ধ এবং যতটুকু ঝুলিয়ে রাখা বৈধ ও মুস্তাহাব তার আলোচনা
অহংকারে কাপড় ঝুলানো: কেয়ামতের সতর্কতা
সহিহ মুসলিম : ৫৩৪৮
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৩৪৮
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، وَسَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَنَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الَّذِي يَجُرُّ ثِيَابَهُ مِنَ الْخُيَلاَءِ لاَ يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি অহমিকাবশত তাঁর কাপড়গুলো (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে দেবে, কেয়ামতের দিনে আল্লাহ তার প্রতি (রহমতের নজরে) দৃষ্টি দিবেন না।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৫২৮০, ইসলামীক সেন্টারঃ ৫২৯৪
সহিহ মুসলিম হাদিস ৫৩৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্টভাবে বলেছেন, যে ব্যক্তি অহমিকাবশত তার কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে দেবে, কেয়ামতের দিনে আল্লাহ তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। এখানে মূল বিষয় শুধু কাপড়ের দৈর্ঘ্য নয়, বরং “অহমিকাবশত” বা দম্ভের সাথে তা করা। তাই হাদিসটি মানুষকে পোশাকের মাধ্যমে নিজেকে বড় দেখানোর মনোভাব থেকে সতর্ক করে। ইসলামী আদবের দৃষ্টিতে পোশাক শালীনতা, বিনয় ও সংযমের মাধ্যম হওয়া উচিত; অহংকারের চিহ্ন নয়। “অহংকারে কাপড় ঝুলানো হাদিস”, “টাখনুর নিচে কাপড়”, “ইযার ঝুলানো” এবং “কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকাবেন না”—এসব শব্দ এই হাদিসের সারকথা বোঝাতে খুব প্রাসঙ্গিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পোশাকের মাধ্যমে অহংকার প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
- হাদিসে সতর্কতার কেন্দ্রবিন্দু হলো দম্ভ ও অহমিকা।
- কেয়ামতের দিনের জবাবদিহি মনে রাখলে আচরণে বিনয় আসে।
- মুসলিমের পোশাকে শালীনতা ও নম্রতা থাকা দরকার।
