৩৭/৬. অধ্যায়ঃ
মুযাফ্ফাত, দুব্বা, হানতাম ও নাকীর [৫] ইত্যাদিতে নাবীয তৈরি করার নিষেধাজ্ঞা (এবং এ হুকুম রহিত হওয়া আর নেশা সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এগুলো বৈধ) হওয়ার বর্ণনা
আবদুল কাইস প্রতিনিধি দল ও নাবীযের পাত্রের বিধান
সহিহ মুসলিম : ৫০৯৫
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫০৯৫
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ، سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ عِنْدَ هَذَا الْمِنْبَرِ - وَأَشَارَ إِلَى مِنْبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلُوهُ عَنِ الأَشْرِبَةِ فَنَهَاهُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ وَالنَّقِيرِ وَالْحَنْتَمِ . فَقُلْتُ لَهُ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ وَالْمُزَفَّتِ وَظَنَنَّا أَنَّهُ نَسِيَهُ فَقَالَ لَمْ أَسْمَعْهُ يَوْمَئِذٍ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَقَدْ كَانَ يَكْرَهُ .
সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ইবনু উমর (রাঃ)-কে এ মিম্বারের নিকট বলতে শুনেছি বলে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মিম্বারের প্রতি ইশারা করেন। আবদুল কাইসের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলো এবং তাঁকে মদ সম্পর্কে প্রশ্ন করলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে দুব্বা, নাকীর ও হানতাম হতে বারণ করলেন। আমি বললাম, হে আবু মুহাম্মাদ! মুযাফফাতের কথা? আমরা মনে করলাম, তিনি সম্ভবত ভুলে গেছেন। তিনি বললেন, সেদিন আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এ কথা বলেছেন আমি তা শুনিনি। তবে তিনি সেটাকে পছন্দ করতেন না।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৫০৩২, ইসলামীক সেন্টারঃ ৫০৪২
সহিহ মুসলিম হাদিস ৫০৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মিম্বারের কাছে দাঁড়িয়ে একটি ঘটনা বলেন। আবদুল কাইসের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে মদ বা পানীয় সম্পর্কে প্রশ্ন করে। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাদেরকে দুব্বা, নাকীর ও হানতাম পাত্র থেকে বারণ করেন। বর্ণনায় মুযাফফাতের কথাও জিজ্ঞেস করা হয়। উত্তরদাতা বলেন, সেদিন ইবনু উমর (রাঃ)-এর কাছ থেকে তিনি মুযাফফাত শব্দটি শুনেননি, তবে তিনি সেটাকে পছন্দ করতেন না। এই হাদিসে পানীয়ের বিধান জানতে প্রশ্ন করার শিক্ষা আছে। একই সঙ্গে নাবীযের পাত্র হিসেবে দুব্বা, নাকীর ও হানতামের নিষেধাজ্ঞাও স্পষ্ট। এখানে যে অংশ নিশ্চিতভাবে শোনা হয়েছে এবং যে অংশ আলাদা মন্তব্য হিসেবে এসেছে, তা আলাদা রাখা হয়েছে—এটিও হাদিস বর্ণনার সতর্কতার দিক দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আবদুল কাইস প্রতিনিধি দল পানীয়ের বিধান জানতে নবীজির কাছে প্রশ্ন করেছিল।
- দুব্বা, নাকীর ও হানতাম পাত্র থেকে বারণ এসেছে।
- বর্ণনাকারী নিশ্চিতভাবে যা শুনেছেন, তা আলাদা করে বলেছেন।
- ধর্মীয় কথা বলার সময় সতর্কতা ও নির্ভুলতা দরকার।
