২/১৭. অধ্যায়ঃ
ইস্তিঞ্জার বিবরণ
শৌচকাজের আদব: ডান হাত, কেবলা ও ইস্তিঞ্জা
সহীহ মুসলিম : ৪৯৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৯৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، وَمَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ قَالَ لَنَا الْمُشْرِكُونَ إِنِّي أَرَى صَاحِبَكُمْ يُعَلِّمُكُمْ حَتَّى يُعَلِّمَكُمُ الْخِرَاءَةَ . فَقَالَ أَجَلْ إِنَّهُ نَهَانَا أَنْ يَسْتَنْجِيَ أَحَدُنَا بِيَمِينِهِ أَوْ يَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ وَنَهَى عَنِ الرَّوْثِ وَالْعِظَامِ وَقَالَ " لاَ يَسْتَنْجِي أَحَدُكُمْ بِدُونِ ثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ " .
সালমান (রাযি:) হতে বর্ণিতঃ
মুশরিকরা একবার আমাকে বলল, “আমরা দেখছি তোমাদের সঙ্গী [রসূল (ﷺ)] তোমাদেরকে সব কাজই শিক্ষা দেন; এমনকি প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ম নীতিও তোমাদেরকে শিক্ষা দেন!” (জবাবে) তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেছেন ডান হাতে শৌচকাজ করতে, (ইস্তিঞ্জার সময়) কেবলামুখী হয়ে বসতে এবং তিনি আমাদেরকে আরও নিষেধ করেছেন গোবর অথবা হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে। তোমাদের কেউ যেন তিনটি ঢিলার কম দিয়ে ইস্তিঞ্জা না করে।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৯৮, ইসলামীক সেন্টারঃ ৫১৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালমান (রা.) জানান, মুশরিকরা বলেছিল যে রসূল صلى الله عليه وسلم মুসলিমদের সব কাজ শেখান, এমনকি প্রস্রাব-পায়খানার নিয়মও। তিনি বলেন, হ্যাঁ, নবী صلى الله عليه وسلم শৌচকাজের সময় ডান হাত ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। ইস্তিঞ্জার সময় কেবলামুখী হয়ে বসতেও নিষেধ করেছেন। তিনি গোবর ও হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, কেউ যেন তিনটি ঢিলার কম দিয়ে ইস্তিঞ্জা না করে। এই বর্ণনা ইসলামের পরিচ্ছন্নতা-শিক্ষাকে খুব সহজভাবে তুলে ধরে। পায়খানা-প্রস্রাবের আদব কোনো লজ্জার বিষয় নয়; বরং পবিত্র জীবনযাপনের অংশ। ইস্তিঞ্জার নিয়ম জানা ও মানা দৈনন্দিন জীবনে নববী নির্দেশ অনুসরণের একটি বাস্তব উপায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শৌচকাজে ডান হাত ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।
- ইস্তিঞ্জার সময় কেবলামুখী হয়ে বসা থেকে নিষেধ এসেছে।
- গোবর ও হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা করা যাবে না।
- তিনটি ঢিলার কম দিয়ে ইস্তিঞ্জা না করার নির্দেশ আছে।
