৩৪/৪১. অধ্যায়ঃ
শহীদের জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়া
আনাস ইবন নযর (রাঃ)-এর অঙ্গীকার পূরণ
সহিহ মুসলিম : ৪৮১২
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৮১২
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، قَالَ قَالَ أَنَسٌ عَمِّيَ الَّذِي سُمِّيتُ بِهِ لَمْ يَشْهَدْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَدْرًا - قَالَ - فَشَقَّ عَلَيْهِ قَالَ أَوَّلُ مَشْهَدٍ شَهِدَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غُيِّبْتُ عَنْهُ وَإِنْ أَرَانِيَ اللَّهُ مَشْهَدًا فِيمَا بَعْدُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَرَانِيَ اللَّهُ مَا أَصْنَعُ - قَالَ - فَهَابَ أَنْ يَقُولَ غَيْرَهَا - قَالَ - فَشَهِدَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ - قَالَ - فَاسْتَقْبَلَ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فَقَالَ لَهُ أَنَسٌ يَا أَبَا عَمْرٍو أَيْنَ فَقَالَ وَاهًا لِرِيحِ الْجَنَّةِ أَجِدُهُ دُونَ أُحُدٍ - قَالَ - فَقَاتَلَهُمْ حَتَّى قُتِلَ - قَالَ - فَوُجِدَ فِي جَسَدِهِ بِضْعٌ وَثَمَانُونَ مِنْ بَيْنِ ضَرْبَةٍ وَطَعْنَةٍ وَرَمْيَةٍ - قَالَ - فَقَالَتْ أُخْتُهُ عَمَّتِيَ الرُّبَيِّعُ بِنْتُ النَّضْرِ فَمَا عَرَفْتُ أَخِي إِلاَّ بِبَنَانِهِ . وَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ { رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلاً} قَالَ فَكَانُوا يُرَوْنَ أَنَّهَا نَزَلَتْ فِيهِ وَفِي أَصْحَابِهِ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার যে চাচার নামানুসারে আমার নামকরণ করা হয়েছে, সেই আনাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে বদরের যুদ্ধে শরীক হতে পারেননি। রাবী বলেন, এটা ছিল তাঁর জন্যে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি (প্রায়ই) বলতেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথম যে যুদ্ধটি করেছিলেন, তাতে আমি শরীক হতে পারলাম না। এরপর যদি আল্লাহ তা’আলা আমাকে তাঁর কোন যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করার সুযোগ দান করেন তাহলে আমি কী করি তা আল্লাহ দেখবেন।রাবী বলেন, এর বেশি কিছু বলতে তিনি ভয় পেতেন। তারপর উহুদ যুদ্ধের দিন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। রাবী বলেন, সাদ ইবনু মু'আয (রাঃ) যখন অগ্রসর হলেন তখন আনাস (রাঃ) তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবু আমর! কোথায় (যাচ্ছো)? তিনি বললেন, বাহ! জান্নাতের ঘ্রাণ আমি উহুদ প্রান্ত থেকে পাচ্ছি।রাবী বলেন, তারপর তিনি কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়ে গেলেন। রাবী বলেন, তারপর তাঁর মৃত দেহে আশিটিরও অধিক তরবারি, বর্শা ও তীরের চিহ্ন পাওয়া যায়। রাবী আনাস (রাঃ) বলেন, তাঁর বোন এবং আমার ফুফু রুবাইয়্যি বিনত নযর (রাঃ) বলেন, (শহীদের ক্ষতবিক্ষত দেহের) কেবল তাঁর আঙ্গুলের জোড়া দেখেই তাঁকে আমি শনাক্ত করেছি। (অন্য কোন পরিচয়ই অবশিষ্ট ছিল না।) তখন আয়াত নাজিল হলোঃ “এরা হচ্ছে সেসব ব্যক্তি, যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করে দেখিয়েছে। তাদের কেউ অঙ্গীকার ইতোমধ্যেই পূরণ করে ফেলেছে, আর কেউ তার প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা মোটেই পরিবর্তিত হয়নি”-(সূরা আহযাব ৩৩ঃ২৩)। রাবী বলেন, সাহাবীগণ মনে করতেন যে এ আয়াতটি তাঁর এবং তাঁর সাথীদের সম্পর্কেই নাজিল হয়েছিল।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৬৫, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৭৬৬
সহিহ মুসলিম হাদিস ৪৮১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস ইবন নযর (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তিনি বদরের যুদ্ধে থাকতে না পারায় খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর প্রথম যুদ্ধে তিনি থাকতে পারেননি; আল্লাহ যদি পরে কোনো যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে আল্লাহ দেখবেন তিনি কী করেন। তিনি এর বেশি কথা বলতে ভয় করতেন। পরে উহুদের দিন তিনি যুদ্ধে অংশ নেন। সাদ ইবনু মু'আয (রাঃ)-এর সামনে তিনি বলেন, তিনি উহুদের দিক থেকে জান্নাতের ঘ্রাণ পাচ্ছেন। এরপর তিনি যুদ্ধ করেন এবং শহীদ হন। তাঁর দেহে আশিটির বেশি আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর বোন আঙুলের জোড়া দেখে তাঁকে চিনেছিলেন। এই ঘটনার সাথে সূরা আহযাবের অঙ্গীকার পূরণের আয়াতের কথা সাহাবিগণ যুক্ত করে দেখতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবিরা আল্লাহর সাথে করা অঙ্গীকারকে গুরুত্ব দিতেন।
- অপূরণ হওয়া ভালো কাজের কষ্ট তাঁদেরকে পরের সুযোগে দৃঢ় করত।
- আনাস ইবন নযর (রাঃ)-এর ঘটনায় জান্নাতের আশা স্পষ্ট।
- দৃঢ়তা ও সত্যবাদিতা আল্লাহর পথে আমলের বড় শিক্ষা।
