৩৪/১৭. অধ্যায়ঃ
উত্তম শাসক ও নিকৃষ্ট শাসক
শাসকের নাফরমানী দেখলে কী করব
সহিহ মুসলিম : ৪৬৯৯
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৬৯৯
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ، يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ أَخْبَرَنِي مَوْلَى بَنِي فَزَارَةَ، - وَهُوَ رُزَيْقُ بْنُ حَيَّانَ - أَنَّهُ سَمِعَ مُسْلِمَ بْنَ، قَرَظَةَ ابْنَ عَمِّ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ يَقُولُ سَمِعْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ الأَشْجَعِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " خِيَارُ أَئِمَّتِكُمُ الَّذِينَ تُحِبُّونَهُمْ وَيُحِبُّونَكُمْ وَتُصَلُّونَ عَلَيْهِمْ وَيُصَلُّونَ عَلَيْكُمْ وَشِرَارُ أَئِمَّتِكُمُ الَّذِينَ تُبْغِضُونَهُمْ وَيُبْغِضُونَكُمْ وَتَلْعَنُونَهُمْ وَيَلْعَنُونَكُمْ " . قَالُوا قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلاَ نُنَابِذُهُمْ عِنْدَ ذَلِكَ قَالَ " لاَ مَا أَقَامُوا فِيكُمُ الصَّلاَةَ لاَ مَا أَقَامُوا فِيكُمُ الصَّلاَةَ أَلاَ مَنْ وَلِيَ عَلَيْهِ وَالٍ فَرَآهُ يَأْتِي شَيْئًا مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ فَلْيَكْرَهْ مَا يَأْتِي مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلاَ يَنْزِعَنَّ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ " . قَالَ ابْنُ جَابِرٍ فَقُلْتُ - يَعْنِي لِرُزَيْقٍ - حِينَ حَدَّثَنِي بِهَذَا الْحَدِيثِ آللَّهِ يَا أَبَا الْمِقْدَامِ لَحَدَّثَكَ بِهَذَا أَوْ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ مُسْلِمِ بْنِ قَرَظَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ عَوْفًا يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَجَثَا عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَقَالَ إِي وَاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ لَسَمِعْتُهُ مِنْ مُسْلِمِ بْنِ قَرَظَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
‘আওফ ইবনু মালিক আশজা’ঈ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের সর্বোত্তম নেতা হচ্ছেন তারা, যারা তোমাদেরকে ভালোবাসে এবং তোমরাও তাদেরকে ভালোবাসো। তোমরা তাদের জন্য দোয়া করো এবং তারাও তোমাদের জন্য দোয়া করেন। আর তোমাদের নিকৃষ্ট নেতা হচ্ছে তারা, যাদেরকে তোমরা ঘৃণা করো আর যারা তোমাদের ঘৃণা করে এবং তোমরা তাদেরকে অভিশাপ দাও আর তারাও তোমাদেরকে অভিশাপ দেয়।সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল, এ সময় আমরা কি তাদেরকে প্রতিহত করবো না? তিনি বললেন, না, যে যাবৎ তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়েম রাখবে। তবে যার উপর কোন শাসক নিয়োগ করা হবে আর সে তাকে আল্লাহর কোন নাফরমানী করতে দেখবে, তখন ঐ শাসক যতক্ষণ আল্লাহর নাফরমানীতে থাকবে ততক্ষণ তাকে ঘৃণা করতে থাকবে, কিন্তু আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নেবে না।এ হাদীসের একজন রাবী ইবনু জাবির (রহঃ) বলেন, আমার কাছে এ হাদীস বর্ণনাকারী রুযাইককে আমি এ হাদীস বর্ণনাকালে বললাম, আল্লাহর কসম! হে আবূ মিকদাম! সত্যিই কি আপনি মুসলিম ইবনু কারযাকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তখন আপনি তাঁর দু’হাঁটুর উপর ভর করে কিবলামুখী হয়ে গেলেন এবং বললেন, সে আল্লাহর কসম! যিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই, আমি নিশ্চয়ই মুসলিম ইবনু কারযাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আওফ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৫২, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৬৫৪
সহিহ মুসলিম হাদিস ৪৬৯৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উত্তম নেতা ও নিকৃষ্ট নেতার পরিচয় দিয়েছেন। উত্তম নেতা মানুষের ভালোবাসা পায় এবং মানুষকেও ভালোবাসে; তারা একে অন্যের জন্য দোয়া করে। নিকৃষ্ট নেতার ক্ষেত্রে ঘৃণা ও অভিশাপের সম্পর্ক তৈরি হয়। সাহাবীরা জানতে চাইলেন, তখন কি তাদের প্রতিহত করা হবে? তিনি বললেন, না, যতক্ষণ তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়েম রাখবে। এরপর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ এসেছে—কোনো শাসককে আল্লাহর নাফরমানী করতে দেখলে সেই নাফরমানীকে ঘৃণা করবে, কিন্তু আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নেবে না। শেষে রাবীর সতর্ক যাচাইয়ের অংশও এসেছে, যা বর্ণনার বিষয়ে যত্ন দেখায়। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো ভুলকে অপছন্দ করা, কিন্তু ফিতনা বাড়ানো থেকে বেঁচে থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেতা ও জনগণের ভালো সম্পর্ক দোয়া ও ভালোবাসার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
- আল্লাহর নাফরমানী দেখলে সেটিকে ঘৃণা করতে হবে।
- সালাত কায়েম থাকা পর্যন্ত আনুগত্য ভাঙার পথ নিতে নিষেধ করা হয়েছে।
- হাদিস বর্ণনায় রাবীগণ সতর্কতা ও যাচাইকে গুরুত্ব দিতেন।
