৩৪/১৭. অধ্যায়ঃ
উত্তম শাসক ও নিকৃষ্ট শাসক
উত্তম নেতা ও নিকৃষ্ট নেতার পরিচয়
সহীহ মুসলিম : ৪৬৯৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৬৯৮
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ رُزَيْقِ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ قَرَظَةَ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خِيَارُ أَئِمَّتِكُمُ الَّذِينَ تُحِبُّونَهُمْ وَيُحِبُّونَكُمْ وَيُصَلُّونَ عَلَيْكُمْ وَتُصَلُّونَ عَلَيْهِمْ وَشِرَارُ أَئِمَّتِكُمُ الَّذِينَ تُبْغِضُونَهُمْ وَيُبْغِضُونَكُمْ وَتَلْعَنُونَهُمْ وَيَلْعَنُونَكُمْ " . قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلاَ نُنَابِذُهُمْ بِالسَّيْفِ فَقَالَ " لاَ مَا أَقَامُوا فِيكُمُ الصَّلاَةَ وَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْ وُلاَتِكُمْ شَيْئًا تَكْرَهُونَهُ فَاكْرَهُوا عَمَلَهُ وَلاَ تَنْزِعُوا يَدًا مِنْ طَاعَةٍ " .
‘আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের সর্বোত্তম নেতা হচ্ছে তারাই যাদেরকে তোমরা ভালোবাস আর তারাও তোমাদের ভালোবাসে। তারা তোমাদের জন্য দোয়া করে, তোমরাও তাদের জন্য দোয়া কর। পক্ষান্তরে তোমাদের সর্বনিকৃষ্ট নেতা হচ্ছে তারাই যাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর আর তারাও তোমাদেরকে ঘৃণা করে। তোমরা তাদেরকে অভিশাপ দাও আর তারাও তোমাদেরকে অভিশাপ দেয়।বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাদেরকে তরবারি দ্বারা প্রতিহত করব না? তখন তিনি বললেন, না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়েম রাখবে। আর যখন তোমাদের শাসকদের মধ্যে কোনো অপছন্দনীয় কাজ দেখবে; তখন তোমরা তাদের সে কাজকে ঘৃণা করবে; কিন্তু (তাদের) আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নেবে না।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৫১, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৬৫৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উত্তম নেতা ও নিকৃষ্ট নেতার পরিচয় দিয়েছেন। উত্তম নেতা তারা, যাদের জনগণ ভালোবাসে এবং তারাও জনগণকে ভালোবাসে; তারা মানুষের জন্য দোয়া করে, মানুষও তাদের জন্য দোয়া করে। আর নিকৃষ্ট নেতা তারা, যাদের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ঘৃণা ও অভিশাপের পর্যায়ে চলে যায়। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে কি তাদের তরবারি দিয়ে প্রতিহত করা হবে? তিনি বললেন, না, যতক্ষণ তারা সালাত কায়েম রাখবে। এরপর নির্দেশ এসেছে—শাসকদের কোনো অপছন্দনীয় কাজ দেখলে সেই কাজকে ঘৃণা করতে হবে, কিন্তু আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নেওয়া যাবে না। হাদিসটি নেতৃত্ব, সালাত, দোয়া, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল আনুগত্যের সুন্দর ভারসাম্য শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উত্তম নেতৃত্ব ভালোবাসা ও দোয়ার সম্পর্ক তৈরি করে।
- শাসকের ভুল কাজকে ঘৃণা করা যায়, কিন্তু অযথা আনুগত্য ভাঙা নিষেধ।
- সালাত কায়েম থাকা গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা হিসেবে এসেছে।
- নেতা ও জনগণের সম্পর্ক দোয়া ও কল্যাণের হওয়া উচিত।
