৩৪/১৬. অধ্যায়ঃ
শরী’আত গর্হিত কাজে ‘আমীরের আনুগত্য ত্যাগ করা ওয়াজিব, তবে যতক্ষণ তারা সলাত আদায়কারী থাকবে ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না
আমীরের ভুল কাজ দেখলে কী মনোভাব হবে
সহীহ মুসলিম : ৪৬৯৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৬৯৫
وَحَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، جَمِيعًا عَنْ مُعَاذٍ، - وَاللَّفْظُ لأَبِي غَسَّانَ - حَدَّثَنَا مُعَاذٌ، - وَهُوَ ابْنُ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيُّ - حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، عَنْ ضَبَّةَ بْنِ مِحْصَنٍ الْعَنَزِيِّ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " إِنَّهُ يُسْتَعْمَلُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ فَتَعْرِفُونَ وَتُنْكِرُونَ فَمَنْ كَرِهَ فَقَدْ بَرِئَ وَمَنْ أَنْكَرَ فَقَدْ سَلِمَ وَلَكِنْ مَنْ رَضِيَ وَتَابَعَ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ نُقَاتِلُهُمْ قَالَ " لاَ مَا صَلَّوْا " . أَىْ مَنْ كَرِهَ بِقَلْبِهِ وَأَنْكَرَ بِقَلْبِهِ .
নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-এর সূত্র হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তোমাদের উপর এরূপ কতিপয় আমীর নিযুক্ত করা হবে, তোমরা তাদের চিনতে পারবে এবং অপছন্দ করবে। যে তাদের অপছন্দ করল, সে মুক্তি পেল এবং যে প্রত্যাখ্যান করল, সে নিরাপদ হলো। কিন্তু যে (তাঁদের প্রতি) সন্তুষ্ট থাকল এবং অনুসরণ করল (সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো)।লোকেরা জানতে চাইল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না? তিনি বললেন, না, যতক্ষণ তারা সালাত আদায়কারী থাকবে। (অপছন্দ করল) অর্থাৎ, যে অন্তর থেকে তাদের অপছন্দ করল এবং অন্তর থেকে প্রত্যাখ্যান করলো।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৪৮, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৬৫০
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, এমন আমীর নিযুক্ত হবে যাদের কিছু কাজ মানুষ চিনবে এবং অপছন্দ করবে। যে তাদের অপছন্দ করল, সে মুক্তি পেল; যে প্রত্যাখ্যান করল, সে নিরাপদ হলো। কিন্তু যে সন্তুষ্ট হলো এবং অনুসরণ করল, সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। সাহাবীরা জানতে চাইলেন, তখন কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বললেন, না, যতক্ষণ তারা সালাত আদায় করবে। হাদিসের শেষে ব্যাখ্যা এসেছে—অপছন্দ করা ও প্রত্যাখ্যান করা বলতে অন্তরের অপছন্দ ও অন্তরের প্রত্যাখ্যান বোঝানো হয়েছে। তাই এই হাদিসের মূল কথা হলো ভুলকে মনে মনে মেনে না নেওয়া, কিন্তু ফিতনা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ থেকেও দূরে থাকা। শাসকের আনুগত্য, সালাত, ধৈর্য এবং অন্তরের অবস্থান—সবই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভুল কাজকে অন্তর থেকে অপছন্দ করা ঈমানি সতর্কতার অংশ।
- ভুলের প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া ও তা অনুসরণ করা ক্ষতির কারণ।
- সালাত কায়েম থাকা পর্যন্ত যুদ্ধের পথ নেওয়া নিষেধ করা হয়েছে।
- অন্তরের অবস্থানও মানুষের দায়িত্বের অংশ।
