৩৪/৬. অধ্যায়ঃ
গনীমাতের মাল আত্মসাৎ করা কঠিন হারাম
গনীমতের মাল আত্মসাৎ করলে কেয়ামতের ভয়াবহ হিসাব
সহীহ মুসলিম : ৪৬২৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৬২৮
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ، عَنْ أَبِي، زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ فَذَكَرَ الْغُلُولَ فَعَظَّمَهُ وَعَظَّمَ أَمْرَهُ ثُمَّ قَالَ " لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ بَعِيرٌ لَهُ رُغَاءٌ يَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي . فَأَقُولُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ . لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ فَرَسٌ لَهُ حَمْحَمَةٌ فَيَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي . فَأَقُولُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ . لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ شَاةٌ لَهَا ثُغَاءٌ يَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي . فَأَقُولُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ . لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ نَفْسٌ لَهَا صِيَاحٌ فَيَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي . فَأَقُولُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ . لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ رِقَاعٌ تَخْفِقُ فَيَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي . فَأَقُولُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ . لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ صَامِتٌ فَيَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي فَأَقُولُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ " .
আবূ হুরাইয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট (ভাষণ দিতে) দাঁড়ালেন এবং গনীমাতের মাল আত্মসাৎ প্রসঙ্গে আলোচনা করলেন। তিনি এর উপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করলেন। তারপর বললেন, “আমি তোমাদের কাউকে কেয়ামত দিবসে যেন এমন অবস্থায় উপস্থিত না পাই যে, চিৎকাররত উট তার ঘাড়ের উপর সওয়ার হয়ে আছে, আর সে আরজ করছে, ‘হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমাকে সাহায্য করুন!’ তখন আমি বলবো: ‘তোমার ব্যাপারে আমার কিছুই করার ক্ষমতা নেই। আমি (এর পূর্বেও) তোমাকে (এ ব্যাপারে) জানিয়ে দিয়েছি।’ আমি তোমাদের কাউকে কেয়ামতের দিন যেন এমন অবস্থায় উপস্থিত না পাই যে, চিৎকাররত ঘোড়া তার কাঁধের উপর সওয়ার হয়ে আছে আর সে আরজ করছে, ‘হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমাকে সাহায্য করুন।’ তখন আমি বলবো, ‘তোমার ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই, আমি তো (এর পূর্বে) তোমাকে (এ ব্যাপারে) জানিয়ে দিয়েছি।’ আমি তোমাদের কাউকে যেন কেয়ামত দিবসে এমন অবস্থায় উপস্থিত না পাই যে, কোন আর্তনাদরত ব্যক্তিকে সে বয়ে নিয়ে আসছে আর আরজ করছে, ‘হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমাকে সাহায্য করুন।’ আর আমি বলবো, ‘তোমার ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র কিছু করার নেই। আর আমি (ইতোপূর্বেই তা) তোমার নিকট প্রচার করেছি।’ আমি তোমাদের কাউকে কেয়ামতের দিন এমন অবস্থায় যেন উপস্থিত না পাই যে, তার ঘাড়ের উপর পতপত করে কাপড় উড়ছে আর সে ফরিয়াদ করছে, ‘হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমাকে সাহায্য করুন।’ আমি বলবো যে, ‘তোমার ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই। আমি তো (ইতোপূর্বেই তা) তোমাকে জানিয়ে দিয়েছি।’ আর এমন যেন না হয় যে, কেয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যকার কাউকে এ অবস্থায় পাই যে, তার ঘাড়ে স্বর্ণ, রৌপ্য বয়ে নিয়ে আসবে আর আরজ করবে, ‘হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমাকে সাহায্য করুন।’ আর আমি বলবো, ‘তোমাকে সাহায্য করার কোন সাধ্য আমার নেই, আমি তো (পূর্বেই সে বিষয়ে) তোমাকে জানিয়ে দিয়েছি।’”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৮২, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৫৮৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) গনীমতের মাল আত্মসাৎ সম্পর্কে খুব গুরুত্ব দিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বারবার বলেছেন, কেয়ামতের দিন কেউ যেন এমন অবস্থায় না আসে যে তার ঘাড়ে উট, ঘোড়া, ছাগল, মানুষ, কাপড় বা স্বর্ণ-রৌপ্য বোঝা হয়ে আছে। অর্থাৎ যে জিনিস অন্যায়ভাবে নেওয়া হবে, সেটিই কেয়ামতের দিন লজ্জা ও দায় হিসেবে সামনে আসবে। মানুষ তখন সাহায্য চাইবে, কিন্তু নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলবেন, আমি তো তোমাকে আগেই জানিয়ে দিয়েছি। এখানে গনীমতের মাল আত্মসাৎ শুধু সম্পদের অন্যায় দখল নয়; বরং আমানতের খিয়ানত হিসেবে এসেছে। হাদিসটি শেখায়, ছোট বা বড় যাই হোক, সরকারি বা সমষ্টিগত সম্পদে অন্যায় হাত দেওয়া খুব ভয়ংকর বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমানতের সম্পদ অন্যায়ভাবে নেওয়া কেয়ামতের দিনে বড় দায় হয়ে দাঁড়াবে।
- আগে থেকে সতর্ক করা হলে পরে অজুহাত দেওয়ার সুযোগ কমে যায়।
- উট, ঘোড়া, কাপড় বা স্বর্ণ—যে জিনিস নেওয়া হবে, সেটিই হিসাবের বিষয় হবে।
- সমষ্টিগত সম্পদ ব্যবহারে সততা রাখা মুমিনের দায়িত্ব।
