৩৩/৪৮. অধ্যায়ঃ
জিহাদ অভিযানে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের জন্য গনীমাতের কোন অংশ নেই, তবে স্বেচ্ছায় তাদের কিছু দেয়া এবং শত্রুপক্ষের শিশুদের হত্যা করা নিষিদ্ধ
জিহাদে নারী, শিশু ও ইয়াতিমের বিধান
সহিহ মুসলিম : ৪৫৭৮
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৫৭৮
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ، أَنَّ نَجْدَةَ، كَتَبَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنْ خَمْسِ، خِلاَلٍ . فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَوْلاَ أَنْ أَكْتُمَ، عِلْمًا مَا كَتَبْتُ إِلَيْهِ . كَتَبَ إِلَيْهِ نَجْدَةُ أَمَّا بَعْدُ فَأَخْبِرْنِي هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْزُو بِالنِّسَاءِ وَهَلْ كَانَ يَضْرِبُ لَهُنَّ بِسَهْمٍ وَهَلْ كَانَ يَقْتُلُ الصِّبْيَانَ وَمَتَى يَنْقَضِي يُتْمُ الْيَتِيمِ وَعَنِ الْخُمْسِ لِمَنْ هُوَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ ابْنُ عَبَّاسٍ كَتَبْتَ تَسْأَلُنِي هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْزُو بِالنِّسَاءِ وَقَدْ كَانَ يَغْزُو بِهِنَّ فَيُدَاوِينَ الْجَرْحَى وَيُحْذَيْنَ مِنَ الْغَنِيمَةِ وَأَمَّا بِسَهْمٍ فَلَمْ يَضْرِبْ لَهُنَّ وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ يَقْتُلُ الصِّبْيَانَ فَلاَ تَقْتُلِ الصِّبْيَانَ وَكَتَبْتَ تَسْأَلُنِي مَتَى يَنْقَضِي يُتْمُ الْيَتِيمِ فَلَعَمْرِي إِنَّ الرَّجُلَ لَتَنْبُتُ لِحْيَتُهُ وَإِنَّهُ لَضَعِيفُ الأَخْذِ لِنَفْسِهِ ضَعِيفُ الْعَطَاءِ مِنْهَا فَإِذَا أَخَذَ لِنَفْسِهِ مِنْ صَالِحِ مَا يَأْخُذُ النَّاسُ فَقَدْ ذَهَبَ عَنْهُ الْيُتْمُ وَكَتَبْتَ تَسْأَلُنِي عَنِ الْخُمْسِ لِمَنْ هُوَ وَإِنَّا كُنَّا نَقُولُ هُوَ لَنَا . فَأَبَى عَلَيْنَا قَوْمُنَا ذَاكَ .
ইয়াযীদ ইবনু হুরমুয (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
নাজদা (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে পাঁচটি ব্যাপারে প্রশ্ন করে পত্র লিখলেন। তখন ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন, “যদি আমি ইলম গোপনকারী হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে আমি তার কাছে জবাব লিখতাম না।”নাজদা সে পত্রে তাঁকে লিখেছিলেন, “হামদ ও সালাতের পর আমাকে অবহিত করুন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি মহিলাদেরকে নিয়ে যুদ্ধযাত্রা করতেন? তিনি তাদেরকে কি গনীমতের ভাগ দিতেন? তিনি কি শত্রুপক্ষের শিশুদের হত্যা করতেন? আর কখন ইয়াতীমের ইয়াতীম অবস্থার সমাপ্তি হয়? আর গনীমতের এক পঞ্চমাংশের হকদার কারা?”জবাবে ইবন আব্বাস (রাঃ) লিখলেন, “তুমি আমাকে লিখিত প্রশ্ন করেছ যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি মহিলাদেরকে নিয়ে যুদ্ধযাত্রা করতেন? হ্যাঁ, তিনি তাদেরকে নিয়ে যুদ্ধ যাত্রা করতেন এবং তাঁরা আহতদের সেবা-শুশ্রূষা করতেন এবং গনীমতের মাল থেকে তাঁদেরকে পুরস্কৃত করা হতো, কিন্তু গনীমতের ভাগ তাঁদের জন্য বরাদ্দ করা হতো না। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনও শিশুদের হত্যা করতেন না। সুতরাং তুমিও শিশুদেরকে হত্যা করবে না।আর তোমার চিঠিতে আমাকে এও প্রশ্ন করেছ যে, কখন ইয়াতীমের ইয়াতীম অবস্থা সমাপ্ত হয়? আমার জীবনের শপথ! অনেক সময় কোন ব্যক্তির দাড়ি গজিয়ে যায়; অথচ সে তার নিজের হক গ্রহণে দুর্বল থাকে এবং অন্য কারো হক প্রদানের বেলায়ও দুর্বল থাকে। সুতরাং যখন সে লোকদের মতো নিজের অধিকার বুঝে নিতে পারে তখনই তার ইয়াতীম অবস্থার সমাপ্তি হয়।আর তুমি লিখেছ, গনীমতের এক পঞ্চমাংশ কাদের প্রাপ্য? আমরা বলি, তা আমাদের (আহলে বায়তদের) জন্যই, কিন্তু আমাদের গোত্রের লোকেরা (বানু উমাইয়্যাহ) তা অস্বীকার করছে।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৩৩, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৫৩৬
সহিহ মুসলিম হাদিস ৪৫৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নাজদা কয়েকটি প্রশ্ন করে ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে চিঠি লেখেন। ইবন আব্বাস বলেন, ইলম গোপন করার আশঙ্কা না থাকলে তিনি উত্তর দিতেন না। জবাবে তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নারীদের নিয়ে যুদ্ধযাত্রা করতেন; তাঁরা আহতদের সেবা করতেন এবং গনীমত থেকে পুরস্কার পেতেন, তবে নির্দিষ্ট ভাগ তাঁদের জন্য ছিল না। তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শিশুদের হত্যা করতেন না, তাই শিশু হত্যা করা যাবে না। ইয়াতিমের ব্যাপারে তিনি বলেন, যখন সে নিজের অধিকার বুঝে নিতে পারে, তখন তার ইয়াতিম অবস্থা শেষ হয়। খুমসের ব্যাপারে তিনি আহলে বাইতের দাবির কথা উল্লেখ করেন। এই হাদিসে জিহাদের বিধান, নারী সাহাবীদের সেবা, শিশু হত্যা নিষেধ এবং ইয়াতিমের পরিপক্বতা স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নারীরা যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের সেবা করতেন, তবে নির্দিষ্ট গনীমত ভাগ পেতেন না।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শিশুদের হত্যা করতেন না—এটি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
- ইয়াতিমের অবস্থা শুধু বয়স নয়, অধিকার বুঝে নেওয়ার ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
- ইলম গোপন না করার দায়িত্ব ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর কথায় দেখা যায়।
