৩৩/৩০. অধ্যায়ঃ
বদরের যুদ্ধ
বদরের আগে পরামর্শ, আনুগত্য ও সত্যের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৪৫১৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৫১৩
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَاوَرَ حِينَ بَلَغَهُ إِقْبَالُ أَبِي سُفْيَانَ قَالَ فَتَكَلَّمَ أَبُو بَكْرٍ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ تَكَلَّمَ عُمَرُ فَأَعْرَضَ عَنْهُ فَقَامَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ فَقَالَ إِيَّانَا تُرِيدُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَمَرْتَنَا أَنْ نُخِيضَهَا الْبَحْرَ لأَخَضْنَاهَا وَلَوْ أَمَرْتَنَا أَنْ نَضْرِبَ أَكْبَادَهَا إِلَى بَرْكِ الْغِمَادِ لَفَعَلْنَا - قَالَ - فَنَدَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ فَانْطَلَقُوا حَتَّى نَزَلُوا بَدْرًا وَوَرَدَتْ عَلَيْهِمْ رَوَايَا قُرَيْشٍ وَفِيهِمْ غُلاَمٌ أَسْوَدُ لِبَنِي الْحَجَّاجِ فَأَخَذُوهُ فَكَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُونَهُ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ وَأَصْحَابِهِ . فَيَقُولُ مَا لِي عِلْمٌ بِأَبِي سُفْيَانَ وَلَكِنْ هَذَا أَبُو جَهْلٍ وَعُتْبَةُ وَشَيْبَةُ وَأُمَيَّةُ بْنُ خَلَفٍ . فَإِذَا قَالَ ذَلِكَ ضَرَبُوهُ فَقَالَ نَعَمْ أَنَا أُخْبِرُكُمْ هَذَا أَبُو سُفْيَانَ . فَإِذَا تَرَكُوهُ فَسَأَلُوهُ فَقَالَ مَا لِي بِأَبِي سُفْيَانَ عِلْمٌ وَلَكِنْ هَذَا أَبُو جَهْلٍ وَعُتْبَةُ وَأُمَيَّةُ بْنُ خَلَفٍ فِي النَّاسِ . فَإِذَا قَالَ هَذَا أَيْضًا ضَرَبُوهُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ يُصَلِّي فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ انْصَرَفَ قَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَضْرِبُوهُ إِذَا صَدَقَكُمْ وَتَتْرُكُوهُ إِذَا كَذَبَكُمْ " . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا مَصْرَعُ فُلاَنٍ " . قَالَ وَيَضَعُ يَدَهُ عَلَى الأَرْضِ هَا هُنَا وَهَا هُنَا قَالَ فَمَا مَاطَ أَحَدُهُمْ عَنْ مَوْضِعِ يَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর কাছে যখন আবু সুফইয়ানের (মদিনায়) অগ্রাভিযানের সংবাদ পৌঁছল তখন তিনি সাহাবীদের সাথে এ নিয়ে পরামর্শ করলেন। আবু বাকর (রাঃ) এ ব্যাপারে কথা বললেন, কিন্তু তিনি তাঁর কথার উত্তর দিলেন না। এরপর উমর (রাঃ) কথা বললেন। তিনি তার কথারও কোনো উত্তর দিলেন না। পরিশেষে সাদ ইবন উবাদা (রাঃ) দণ্ডায়মান হলেন। এরপর তিনি বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি আমাদের জবাব আশা করেন? সে আল্লাহর শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন, যদি আপনি আমাদেরকে আমাদের ঘোড়া নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেন, তবে নিশ্চয়ই আমরা সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ব। আর যদি আপনি আমাদেরকে নির্দেশ দেন, সওয়ারী হাঁকিয়ে ‘বারকুল গামাদ’ পর্যন্ত পৌঁছার জন্য তবে নিশ্চয়ই আমরা তাই করবো।”এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলিমদেরকে আহ্বান করলেন। তখন সকলেই রওয়ানা হলেন এবং বদর নামক স্থানে উপনীত হলেন। আর সাহাবীদের সামনে সেখানে কুরাইশের সাথীগণও উপনীত হল। তাদের মধ্যে বনি হাজ্জাজের একজন কৃষ্ণকায় দাস ছিল। সাহাবীগণ তাকে পাকড়াও করলেন। তারপর তাকে আবু সুফইয়ান এবং তার সাথীদের সম্পর্কে তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তখন সে বলতে লাগলো, “আবু সুফইয়ান সম্পর্কে আমার কোনো কিছু জানা নেই। তবে আবু জাহল, উতবা, শাইবা এবং উমাইয়া ইবন খালাফ তো উপস্থিত আছে।” যখন সে এরূপ বলল তখন তাঁরা তাকে প্রহার করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় সে বলল, “হ্যাঁ, আমি আবু সুফইয়ান সম্পর্কে খবর দিচ্ছি।” তখন তাঁরা তাকে ছেড়ে দিলেন। এরপর যখন তারা পুনরায় আবু সুফইয়ান সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন, তখন সে বলল, “আবু সুফইয়ান জনগণের মাঝে উপস্থিত আছেন।” যখন সে পুনরায় এ একই কথা বলল, তখন তাঁরা আবার তাকে প্রহার করতে লাগলেন। সে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতে দণ্ডায়মান ছিলেন। অতএব যখন তিনি এ অবস্থা দেখলেন, তখন সালাত সমাপ্ত করার পর বললেন, “সে আল্লাহর শপথ! যাঁর হাতে আমার জান, যখন সে তোমাদের কাছে সত্য কথা বলে তখন তোমরা তাকে প্রহার করো, আর যখন সে মিথ্যে কথা বলে তখন তোমরা তাকে ছেড়ে দাও।”এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) ভূমির উপর স্বীয় হাত রেখে বললেন, “এ স্থান অমুক বিধর্মীয় ধরাশায়ী হওয়ার স্থান বা মৃত্যুস্থল।” বর্ণনাকারী বলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যে স্থানে যে বিধর্মীর নাম নিয়ে হাত রেখেছিলেন, সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে, এর সামান্যও ব্যতিক্রম হয়নি।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৭০, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৪৭২
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৫১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বদরের আগে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর পরামর্শ, সাহাবীদের প্রস্তুতি এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য বোঝার ঘটনা এসেছে। আবু সুফিয়ানের অগ্রাভিযানের খবর পেয়ে নবী صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। আবু বাকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) কথা বলেন, এরপর সাদ ইবন উবাদা (রাঃ) দৃঢ় আনুগত্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যদি সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে বলা হয়, তবুও তাঁরা যাবেন। এরপর মুসলিমরা বদরে পৌঁছান। সেখানে কুরাইশদের এক দাসকে ধরে আবু সুফিয়ান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। সে যখন সত্য কথা বলে, তখন তাকে মারা হচ্ছিল; আর যখন মিথ্যা বলছিল, তখন তাকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছিল। নবী صلى الله عليه وسلم সালাত শেষে এটি ধরিয়ে দেন। শেষে তিনি কিছু লোকের পতনের স্থান দেখান, আর তা সেভাবেই ঘটে। হাদিসটি পরামর্শ, আনুগত্য, সত্য যাচাই এবং নবুয়তের নিদর্শন নিয়ে শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুত্বপূর্ণ কাজে পরামর্শ নেওয়া নবী صلى الله عليه وسلم-এর পদ্ধতির অংশ ছিল।
- সাদ ইবন উবাদা (রাঃ) দৃঢ় আনুগত্যের উদাহরণ দিয়েছেন।
- সত্য কথা শুনেও ভুলভাবে প্রতিক্রিয়া দিলে ভুল সিদ্ধান্ত হতে পারে।
- নবী صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের ভুল ধরিয়ে দিতেন এবং সত্য বোঝাতেন।
