৩৩/২৮. অধ্যায়ঃ

হুনায়ন যুদ্ধ

হুনাইনের যুদ্ধে নবীজির বীরত্ব ও দোয়া

সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৫০৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَنَابٍ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ أَبِي، إِسْحَاقَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى الْبَرَاءِ فَقَالَ أَكُنْتُمْ وَلَّيْتُمْ يَوْمَ حُنَيْنٍ يَا أَبَا عُمَارَةَ فَقَالَ أَشْهَدُ عَلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا وَلَّى وَلَكِنَّهُ انْطَلَقَ أَخِفَّاءُ مِنَ النَّاسِ وَحُسَّرٌ إِلَى هَذَا الْحَىِّ مِنْ هَوَازِنَ وَهُمْ قَوْمٌ رُمَاةٌ فَرَمَوْهُمْ بِرِشْقٍ مِنْ نَبْلٍ كَأَنَّهَا رِجْلٌ مِنْ جَرَادٍ فَانْكَشَفُوا فَأَقْبَلَ الْقَوْمُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ يَقُودُ بِهِ بَغْلَتَهُ فَنَزَلَ وَدَعَا وَاسْتَنْصَرَ وَهُوَ يَقُولُ ‏ "‏ أَنَا النَّبِيُّ لاَ كَذِبْ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ اللَّهُمَّ نَزِّلْ نَصْرَكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ الْبَرَاءُ كُنَّا وَاللَّهِ إِذَا احْمَرَّ الْبَأْسُ نَتَّقِي بِهِ وَإِنَّ الشُّجَاعَ مِنَّا لَلَّذِي يُحَاذِي بِهِ ‏.‏ يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি বারা (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আপনারা কি হুনায়নের দিনে পলায়ন করেছিলেন? তখন তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নবী (ﷺ) পলায়ন করেননি।কিন্তু কিছু সংখ্যক চালাকচতুর হালকাপাতলা লোক ‘হাওয়াযিন’ গোত্রের দিকে গিয়েছিল। আর তারা ছিল তীরন্দাজ সম্প্রদায়। তারা তাদের প্রতি তীর ছুঁড়লো, যেন সেগুলো পঙ্গপালের পায়ের মত। তখন তারা পিছন দিকে হটে গেল। আর লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এগিয়ে এলো। আবু সুফিয়ান ইবনু হারিস (রাঃ) তাঁর খচ্চর টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি অবতরণ করলেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে দু’আ করলেন এবং তিনি বললেনঃ আমি অবশ্যই আল্লাহর নবী, এ কথা মিথ্যে নয়। আমি ইবনু আবদুল মুত্তালিব। “হে আল্লাহ! আপনার সাহায্য অবতীর্ণ করুন”।বারা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! যুদ্ধের উত্তেজনা যখন ঘোরতর হয়ে উঠত, তখন আমরা তাঁর মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতাম। নিশ্চয়ই আমাদের মাঝে বীরপুরুষ তিনিই যাঁকে যুদ্ধে তাঁর সামনে রাখা হয়, অর্থাৎ নবী (ﷺ)।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৬৫, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৪৬৭

সহিহ মুসলিম হাদিস ৪৫০৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বারা (রাঃ) সাক্ষ্য দিয়ে বলেন যে, নবী صلى الله عليه وسلم হুনাইনের দিনে পলায়ন করেননি। বরং কিছু হালকা-পাতলা সাহাবী হাওয়াজিনের দক্ষ তীরন্দাজদের মুখোমুখি হয়ে পিছনে সরে যান। শত্রুদের তীর এমনভাবে আসছিল যেন পঙ্গপালের পায়ের মতো ঘনভাবে ছুটে আসছে। তখন মানুষ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর দিকে ফিরে আসে। তিনি খচ্চর থেকে নামেন, দোয়া করেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চান। তাঁর মুখে ছিল দৃঢ় ঘোষণা: তিনি আল্লাহর নবী, এতে কোনো মিথ্যা নেই। বারা (রাঃ) আরও বলেন, যুদ্ধ যখন খুব কঠিন হয়ে উঠত, তখন সাহাবীরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর মাধ্যমে নিজেদের রক্ষা করতেন। হাদিসটি নবীজির সাহস, আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা এবং বিপদের সময় নেতার সামনে থাকার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কঠিন সময়ে নবী صلى الله عليه وسلم আল্লাহর সাহায্য চেয়ে দোয়া করতেন।
  • যুদ্ধের উত্তেজনাতেও তিনি সাহাবীদের সামনে দৃঢ় থাকতেন।
  • সাহাবীরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সাহস ও অবস্থান থেকে ভরসা পেতেন।
  • সত্যিকারের সাহস বিপদের সময় সামনে থাকার মধ্যে প্রকাশ পায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন