১/১০. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ
তাবূকের খাদ্যাভাব: দোয়ার বরকত ও ঈমানের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৪৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৫
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ جَمِيعًا عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، - قَالَ أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَوْ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، - شَكَّ الأَعْمَشُ - قَالَ لَمَّا كَانَ غَزْوَةُ تَبُوكَ أَصَابَ النَّاسَ مَجَاعَةٌ . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ أَذِنْتَ لَنَا فَنَحَرْنَا نَوَاضِحَنَا فَأَكَلْنَا وَادَّهَنَّا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " افْعَلُوا " . قَالَ فَجَاءَ عُمَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ فَعَلْتَ قَلَّ الظَّهْرُ وَلَكِنِ ادْعُهُمْ بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ ثُمَّ ادْعُ اللَّهَ لَهُمْ عَلَيْهَا بِالْبَرَكَةِ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَ فِي ذَلِكَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . قَالَ فَدَعَا بِنِطَعٍ فَبَسَطَهُ ثُمَّ دَعَا بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ - قَالَ - فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِيءُ بِكَفِّ ذُرَةٍ - قَالَ - وَيَجِيءُ الآخَرُ بَكَفِّ تَمْرٍ - قَالَ - وَيَجِيءُ الآخَرُ بِكِسْرَةٍ حَتَّى اجْتَمَعَ عَلَى النِّطَعِ مِنْ ذَلِكَ شَىْءٌ يَسِيرٌ - قَالَ - فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ بِالْبَرَكَةِ ثُمَّ قَالَ " خُذُوا فِي أَوْعِيَتِكُمْ " . قَالَ فَأَخَذُوا فِي أَوْعِيَتِهِمْ حَتَّى مَا تَرَكُوا فِي الْعَسْكَرِ وِعَاءً إِلاَّ مَلأُوهُ - قَالَ - فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا وَفَضِلَتْ فَضْلَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ لاَ يَلْقَى اللَّهَ بِهِمَا عَبْدٌ غَيْرَ شَاكٍّ فَيُحْجَبَ عَنِ الْجَنَّةِ " .
আবূ হুরায়রাহ কিংবা আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাবূকের যুদ্ধের সময় লোকদের খুবই খাদ্যাভাব দেখা দেয়। তারা বলল, ইয়া রসূলুল্লাহ! যদি আপনি অনুমতি দেন তাহলে আমরা আমাদের উটগুলো যবেহ করে তার গোশত খাই এবং তার চর্বি ব্যবহার করি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যবেহ করতে পার। রাবী বলেন, এমন সময় উমর (রাঃ) আসলেন এবং বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ! যদি এমন করা হয় তাহলে বাহন কমে যাবে। বরং আপনি লোকেদেরকে তাদের অবশিষ্ট খাদ্য নিয়ে আসতে বলুন, তাতে তাদের জন্য আল্লাহর দরবারে বরকতের দোয়া করুন। আশা করা যায়, আল্লাহ তাতে বরকত দান করবেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ ঠিক আছে।তিনি একটি চাদর আনতে বললেন এবং তা বিছালেন, এরপর সকলের অবশিষ্ট খাদ্য চেয়ে পাঠালেন। রাবী বলেন, তখন কেউ এক মুঠো গম নিয়ে উপস্থিত হলো, কেউ এক মুঠো খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলো, কেউ বা এক টুকরো রুটি নিয়ে আসলো, এভাবে কিছু পরিমাণ খাদ্য-সামগ্রী চাদরে জমা হলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বরকতের দোয়া করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ পাত্রগুলো খাদ্য দ্বারা পূর্ণ করে নাও। সকলেই আপন আপন পাত্র ভরে নিল, এমনকি এ বাহিনীর কোন পাত্রই আর অপূর্ণ থাকল না। এরপর সকলেই পরিতৃপ্তি সহকারে আহার করলেন। কিছু রয়েও গেল।তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর প্রেরিত রসূল, যে ব্যক্তি নিঃসন্দেহে এ কথা দু’টোর উপর ঈমান রেখে আল্লাহর নিকট উপস্থিত হবে সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে না।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তাবূকের যুদ্ধের সময় খাদ্যাভাবের কথা এসেছে। লোকেরা উট যবেহ করার অনুমতি চাইলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم অনুমতি দেন। তখন উমর (রাঃ) বলেন, এতে বাহন কমে যাবে; বরং সবাইকে অবশিষ্ট খাদ্য আনতে বলা হোক এবং তাতে বরকতের দোয়া করা হোক। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তা গ্রহণ করেন। একটি চাদর বিছানো হয়, কেউ এক মুঠো গম, কেউ এক মুঠো খেজুর, কেউ এক টুকরো রুটি এনে রাখে। এরপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বরকতের দোয়া করেন। লোকেরা পাত্র ভরে নেয়, সবাই খায়, তবুও কিছু খাবার বাকি থাকে। শেষে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত ইলাহ নেই এবং তিনি আল্লাহর রাসূল—এই দুই সাক্ষ্যে সন্দেহ ছাড়া আল্লাহর কাছে যাবে, সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে না। এই হাদিসে পরামর্শ, দোয়া, খাদ্যে বরকত এবং ঈমানের সাক্ষ্যের শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন সময়ে পরামর্শ গ্রহণ করা ভালো নেতৃত্বের অংশ।
- সামান্য খাদ্যও আল্লাহর বরকতে যথেষ্ট হতে পারে।
- দোয়া ও সম্মিলিত সহযোগিতার শিক্ষা পাওয়া যায়।
- দুই সাক্ষ্যে সন্দেহহীন ঈমান জান্নাতের আশার কারণ।
