৩৩/১২. অধ্যায়ঃ
গনীমাতের মালের বর্ণনা
তলোয়ারের ঘটনা থেকে আনফালের শিক্ষা
সহিহ মুসলিম : ৪৪৪৯
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৪৪৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ نَزَلَتْ فِيَّ أَرْبَعُ آيَاتٍ أَصَبْتُ سَيْفًا فَأَتَى بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَفِّلْنِيهِ . فَقَالَ " ضَعْهُ " . ثُمَّ قَامَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ضَعْهُ مِنْ حَيْثُ أَخَذْتَهُ " . ثُمَّ قَامَ فَقَالَ نَفِّلْنِيهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ " ضَعْهُ " . فَقَامَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَفِّلْنِيهِ أَأُجْعَلُ كَمَنْ لاَ غَنَاءَ لَهُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ضَعْهُ مِنْ حَيْثُ أَخَذْتَهَ " . قَالَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ { يَسْأَلُونَكَ عَنِ الأَنْفَالِ قُلِ الأَنْفَالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ}
মুস’আব বিন সা’দ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। আমার সম্পর্কে চারটি আয়াত নাযিল হয়েছে। আমি একটি তলোয়ার পেলাম। এরপর সেটি নবী (ﷺ)-এর কাছে নিয়ে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটি আমাকে দান করুন। তিনি বললেন: তুমি এটি রেখে দাও।তারপর আবার দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটি আমাকে প্রদান করুন। তখনও তিনি বললেন, এটি যেখান থেকে নিয়েছ সেখানে রেখে দাও।তারপর তিনি আবার দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটি আমাকে দিয়ে দিন। আমাকে কি সে ব্যক্তির মতো গণ্য করা হলো যার এটার দরকার নেই? নবী (ﷺ) বললেন: তুমি এটি যেখান থেকে নিয়েছ সেখানে রেখে দাও।এরপর এ আয়াত নাযিল হয়: (অর্থ) “তারা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ দ্রব্যসম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ ও রাসূলের জন্য”.......।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৪০৭, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৪০৭
সহিহ মুসলিম হাদিস ৪৪৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সা‘দ (রাঃ)-এর নিজের সম্পর্কে নাযিল হওয়া আয়াতের একটি ঘটনা বলা হয়েছে। তিনি একটি তলোয়ার পেয়ে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে গিয়ে সেটি নফল হিসেবে চাইেন। নবী صلى الله عليه وسلم বারবার বলেন, এটি যেখানে থেকে নিয়েছ সেখানে রেখে দাও। সাহাবী নিজের প্রয়োজনের কথা বললেও রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ব্যক্তিগত অনুরোধে সিদ্ধান্ত দেননি। এরপর আনফালের আয়াত নাযিল হয়—যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ ও রাসূলের জন্য। হাদিসটি দেখায়, গনীমতের মাল নিয়ে আবেগ, প্রয়োজন বা যোগ্যতার কথা থাকলেও শেষ কথা আল্লাহর বিধান। এখানে আনফাল, নফল ও গনীমত বণ্টনের নীতি খুব সহজভাবে ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গনীমতের জিনিস হাতে পেলেই তা ব্যক্তিগত মাল হয় না।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم একই নির্দেশ বারবার দিয়ে নিয়মের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন।
- ব্যক্তিগত প্রয়োজন থাকলেও আল্লাহর বিধান আগে মানতে হয়।
- আনফালের আয়াত যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ন্যায্য বণ্টনের ভিত্তি দেয়।
