৩৩/১২. অধ্যায়ঃ
গনীমাতের মালের বর্ণনা
আনফাল: যুদ্ধলব্ধ সম্পদের আসল মালিকানা
সহিহ মুসলিম : ৪৪৪৮
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৪৪৮
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَخَذَ أَبِي مِنَ الْخُمْسِ سَيْفًا فَأَتَى بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ هَبْ لِي هَذَا . فَأَبَى فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { يَسْأَلُونَكَ عَنِ الأَنْفَالِ قُلِ الأَنْفَالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ}
মাস’আব ইবনু সা’দ (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণিতঃ
আমার পিতা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ হতে একটি তলোয়ার নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলেন, এটি আমাকে উপঢৌকন প্রদান করুন। তিনি অস্বীকার করেন। তখন আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেন : “তারা আপনার কাছে যুদ্ধলব্ধ দ্রব্য সম্ভার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, আপনি বলে দিন, যুদ্ধলব্ধ দ্রব্য সম্ভার আল্লাহ ও রাসূলের।” আয়াতটি শেষ পর্যন্ত নাযিল হলো।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৪০৬, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৪০৬
সহিহ মুসলিম হাদিস ৪৪৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বা আনফাল নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এসেছে। একজন সাহাবীর পিতা খুমুসের অংশ থেকে একটি তলোয়ার নিয়ে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে সেটি উপহার হিসেবে চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। এরপর আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন যে, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ ও রাসূলের জন্য। এখানে মূল বিষয় হলো, গনীমত বা আনফাল কারও ব্যক্তিগত পছন্দের বস্তু নয়। কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো জিনিস পেলেই তা নিজের করে নিতে পারে না। এর বণ্টন আল্লাহর বিধান ও রাসূলের সিদ্ধান্তের অধীন। হাদিসটি গনীমতের মাল, খুমুস এবং আনফালের বিধান বোঝাতে সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ব্যক্তিগত দাবি দিয়ে নেওয়া যায় না।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم গনীমত বণ্টনে আল্লাহর নির্দেশের অনুসরণ করেছেন।
- খুমুসের মালও নিয়ম ছাড়া কাউকে দেওয়া হয়নি।
- আনফাল বিষয়ে সিদ্ধান্ত আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশের সাথে যুক্ত।
