৩০/৬. অধ্যায়ঃ
ইয়াহুদী জিম্মী ব্যভিচারীকে রজম করা
আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার
সহীহ মুসলিম : ৪৩৩২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৩৩২
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ مُرَّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِيَهُودِيٍّ مُحَمَّمًا مَجْلُودًا فَدَعَاهُمْ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " هَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ " . قَالُوا نَعَمْ . فَدَعَا رَجُلاً مِنْ عُلَمَائِهِمْ فَقَالَ " أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى أَهَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ " . قَالَ لاَ وَلَوْلاَ أَنَّكَ نَشَدْتَنِي بِهَذَا لَمْ أُخْبِرْكَ نَجِدُهُ الرَّجْمَ وَلَكِنَّهُ كَثُرَ فِي أَشْرَافِنَا فَكُنَّا إِذَا أَخَذْنَا الشَّرِيفَ تَرَكْنَاهُ وَإِذَا أَخَذْنَا الضَّعِيفَ أَقَمْنَا عَلَيْهِ الْحَدَّ قُلْنَا تَعَالَوْا فَلْنَجْتَمِعْ عَلَى شَىْءٍ نُقِيمُهُ عَلَى الشَّرِيفِ وَالْوَضِيعِ فَجَعَلْنَا التَّحْمِيمَ وَالْجَلْدَ مَكَانَ الرَّجْمِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ إِنِّي أَوَّلُ مَنْ أَحْيَا أَمْرَكَ إِذْ أَمَاتُوهُ " . فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لاَ يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ} إِلَى قَوْلِهِ { إِنْ أُوتِيتُمْ هَذَا فَخُذُوهُ} يَقُولُ ائْتُوا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فَإِنْ أَمَرَكُمْ بِالتَّحْمِيمِ وَالْجَلْدِ فَخُذُوهُ وَإِنْ أَفْتَاكُمْ بِالرَّجْمِ فَاحْذَرُوا . فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى { وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} { وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} { وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} فِي الْكُفَّارِ كُلُّهَا .
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা নবী (ﷺ)-এর সম্মুখ দিয়ে একজন ইয়াহুদিকে কালি মাখা এবং বেত্রাঘাতকৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বলেন, “তোমরা কি তোমাদের কিতাবে ব্যভিচারের শাস্তি এভাবেই পেয়েছ?” তারা বলল, “হ্যাঁ।”এরপর তিনি তাদের মধ্য হতে একজন আলিম (পাদরি) ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং বললেন, “তোমাকে সে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যিনি মূসা (আঃ)-এর প্রতি তাওরাত কিতাব অবতীর্ণ করেছিলেন, এরূপই কি তোমরা তোমাদের কিতাবে ব্যভিচারীর শাস্তি পেয়েছ?” তখন ইয়াহুদি আলিম ব্যক্তি বললেন, “না।” তিনি আরো বললেন, “আপনি যদি আমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে এভাবে না বলতেন তবে আমি আপনাকে জানাতাম না যে, এর প্রকৃত শাস্তি রজম (পাথর নিক্ষেপ করা)। কিন্তু আমাদের সমাজের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মাঝে এর ব্যাপক প্রচলন হয়ে গেছে। অতএব, আমরা যখন এতে কোন সম্ভ্রান্ত লোককে পেতাম, তখন তাকে ছেড়ে দিতাম এবং যখন কোন নিঃস্ব ব্যক্তিকে পাকড়াও করতাম তখন তার উপর শরীয়তের প্রকৃত শাস্তি বাস্তবায়িত করতাম। পরিশেষে আমরা বললাম, ‘তোমরা সকলেই এসো, আমরা সবাই মিলে এ ব্যাপারে একটি শাস্তি নির্ধারিত করে নিই, যা ভদ্র ও অভদ্র সকলের উপরই প্রযোজ্য হবে।’ সুতরাং আমরা ব্যভিচারের শাস্তি কালি লাগানো এবং বেত্রাঘাত করাকেই স্থির করে নিলাম, পাথর নিক্ষেপের পরিবর্তে।”তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “হে আল্লাহ! আমিই প্রথম ব্যক্তি, যে তোমার নির্দেশ বাস্তবায়িত (পুনর্জীবিত) করলাম, যা তারা বাতিল করে ফেলেছিল।” সুতরাং তিনি তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিলেন। অবশেষে ঐ ইয়াহুদিকে পাথর মারা হল।এরপর মহান আল্লাহ এ আয়াতঃ “হে রাসূল! যারা কুফরী কাজে দ্রুতগামী তাদের কার্যকলাপ যেন আপনাকে চিন্তিত না করে। ..... অতঃপর সেই বাণী পর্যন্ত যদি তোমরা তা প্রদত্ত হও, তবে তা ধারণ কর”- (সূরা মায়িদা ৫:৪১) পর্যন্ত অবতীর্ণ করেন।তারা (ইয়াহুদিরা) বলতো যে, “তোমরা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর নিকট গমন করো, যদি তিনি তোমাদেরকে এ ব্যাপারে- কালি লাগানো এবং বেত্রাঘাতের নির্দেশ প্রদান করেন, তবে তোমরা তা কার্যকর করবে; আর যদি তিনি রজমের নির্দেশ দেন তবে তা প্রত্যাখ্যান করবে।”আল্লাহ তা'আলা (এ মর্মে) আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “যারা আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত মুতাবিক বিচারকার্য পরিচালনা করে না তারাই হলো কাফির (অস্বীকারকারী) সম্প্রদায়”- (সূরা মায়িদা ৫:৪৪)। “আর যারা আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত অনুসারে বিচার করে না তারাই হলো অত্যাচারী দল”- (সূরা মায়িদা ৫:৪৫)। “আর যারা আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত অনুযায়ী বিচার করে না তারাই হলো সীমালঙ্ঘনকারী দল”- (সূরা মায়িদা ৫:৪৭)। এ সবগুলো আয়াত কাফিরদের সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪২৯১, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪২৯২
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৩৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ইয়াহুদিকে কালি মাখা ও বেত্রাঘাত করা অবস্থায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে আনার ঘটনা এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم জিজ্ঞেস করেন, তাদের কিতাবে ব্যভিচারের শাস্তি কি এভাবেই আছে। তারা প্রথমে হ্যাঁ বলে। এরপর একজন আলিমকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, প্রকৃত বিধান ছিল রজম। কিন্তু সম্ভ্রান্তদের ছাড় দেওয়া আর দুর্বলদের ওপর শাস্তি চালানোর কারণে তারা শাস্তি বদলে কালি লাগানো ও বেত্রাঘাতকে নিয়ম বানিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তিনি আল্লাহর সেই নির্দেশ জীবিত করলেন, যা তারা বাতিল করে ফেলেছিল। এই হাদিসে বিচারনীতি, পক্ষপাতহীনতা এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান গোপন না করার বড় শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারে ধনী-গরিব বা সম্মানী-দুর্বল ভেদ করা অন্যায়।
- আল্লাহর বিধান গোপন বা বদলে দেওয়া গুরুতর ভুল।
- নবী صلى الله عليه وسلم সত্য বিধান প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় ছিলেন।
- ধর্মীয় আইন সুবিধামতো গ্রহণ বা বর্জন করা উচিত নয়।
