২৯/১০. অধ্যায়ঃ

হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়াএবং নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদের কিসাসের দাবি করা বৈধ, হত্যাকারী ব্যক্তির নিহত ব্যক্তির অভিভাবকের নিকট ক্ষমার আবেদন করা মুস্তাহাব

হত্যাকারী ও ক্ষমা: কিসাসের ঘটনায় সতর্ক শিক্ষা

সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪২৮০

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، بْنُ سَالِمٍ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرَجُلٍ قَتَلَ رَجُلاً فَأَقَادَ وَلِيَّ الْمَقْتُولِ مِنْهُ فَانْطَلَقَ بِهِ وَفِي عُنُقِهِ نِسْعَةٌ يَجُرُّهَا فَلَمَّا أَدْبَرَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ ‏"‏ ‏.‏ فَأَتَى رَجُلٌ الرَّجُلَ فَقَالَ لَهُ مَقَالَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَلَّى عَنْهُ ‏.‏ قَالَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ سَالِمٍ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِحَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ فَقَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ أَشْوَعَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا سَأَلَهُ أَنْ يَعْفُوَ عَنْهُ فَأَبَى ‏.‏

ওয়ায়িল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে হাজির করা হল, যে অপর এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল। তখন তিনি নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসকে তার কাছ থেকে কিসাস গ্রহণের অনুমতি দিলেন। তখন সে তাকে নিয়ে চলল এমন অবস্থায়, তার গলায় একটি চামড়ার দড়ি ছিল, যা দ্বারা তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। যখন সে ফিরে যাচ্ছিল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামী।বর্ণনাকারী বলেন, তখন এক লোক ঐ ব্যক্তির সাথে গিয়ে মিলিত হল এবং তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী শোনাল। সে তখন হত্যাকারীকে ছেড়ে দিল।ইসমাঈল ইবনু সালিম (রহঃ) বলেন, আমি এ ঘটনা হাবীব ইবনু সাবিত (রহঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন, আমাকে ইবনু আশওয়া (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য তাকে (ইতোপূর্বে) বলেছিলেন, কিন্তু সে তা অস্বীকার করেছিল।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪১, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪২৪১

সহিহ মুসলিম হাদিস ৪২৮০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে একজন হত্যাকারীকে হাজির করার ঘটনা এসেছে। নবীজি নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসকে কিসাস গ্রহণের অনুমতি দিলেন। সে হত্যাকারীকে গলায় চামড়ার দড়ি দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন নবীজি বললেন, হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামী। একজন লোক গিয়ে এই কথা জানালে ওয়ারিস হত্যাকারীকে ছেড়ে দেয়। বর্ণনার শেষে ইসমাঈল ইবনু সালিম (রহঃ) বলেন, তিনি ঘটনাটি হাবীব ইবনু সাবিত (রহঃ)-কে বললে তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে আগে ক্ষমা করতে বলেছিলেন, কিন্তু সে তা মানেনি। তাই এই হাদিসে কিসাসের অনুমতি থাকলেও ক্ষমার দিকে আহ্বানের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কিসাসের অধিকার থাকলেও ক্ষমার দিকটি গুরুত্ব পেতে পারে।
  • নবীজি ঘটনাটিতে আগে ক্ষমার কথা বলেছিলেন—এটি বর্ণনায় এসেছে।
  • মানুষের রক্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব গুরুতর বিষয়।
  • সতর্কবাণী শুনে ফিরে আসা ও ক্ষমা করা ভালো পথের ইঙ্গিত দেয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন