২৯/৯. অধ্যায়ঃ

হত্যা, সম্মান এবং মালের হক বিনষ্ট করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী

বিদায় ভাষণের শিক্ষা: জান-মাল-সম্মান পবিত্র

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪২৭৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَيَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنِ ابْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِي، بَكْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏"‏ إِنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللَّهُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ثَلاَثَةٌ مُتَوَالِيَاتٌ ذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ وَرَجَبٌ شَهْرُ مُضَرَ الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ - ثُمَّ قَالَ - أَىُّ شَهْرٍ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ - قَالَ - فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَلَيْسَ ذَا الْحِجَّةِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا بَلَى ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَأَىُّ بَلَدٍ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ - قَالَ - فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَلَيْسَ الْبَلْدَةَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا بَلَى ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَأَىُّ يَوْمٍ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ - قَالَ - فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَلَيْسَ يَوْمَ النَّحْرِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ - قَالَ مُحَمَّدٌ وَأَحْسِبُهُ قَالَ - وَأَعْرَاضَكُمْ حَرَامٌ عَلَيْكُمْ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا وَسَتَلْقَوْنَ رَبَّكُمْ فَيَسْأَلُكُمْ عَنْ أَعْمَالِكُمْ فَلاَ تَرْجِعُنَّ بَعْدِي كُفَّارًا - أَوْ ضُلاَّلاً - يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ أَلاَ لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ فَلَعَلَّ بَعْضَ مَنْ يُبَلَّغُهُ يَكُونُ أَوْعَى لَهُ مِنْ بَعْضِ مَنْ سَمِعَهُ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَلاَ هَلْ بَلَّغْتُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ حَبِيبٍ فِي رِوَايَتِهِ ‏"‏ وَرَجَبُ مُضَرَ ‏"‏ ‏.‏ وَفِي رِوَايَةِ أَبِي بَكْرٍ ‏"‏ فَلاَ تَرْجِعُوا بَعْدِي ‏"‏ ‏.‏

আবূ বাকরাহ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিতঃ

কাল আবর্তিত হয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে এসেছে, যে অবস্থায় আল্লাহ তা’আলা আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এক বছর হয় বার মাসে, তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস (অর্থাৎ- তাতে যুদ্ধ-বিগ্রহ করা হারাম)। এর তিন মাস হল ধারাবাহিক- ১. যুলকআদা, ২. যুলহিজ্জা এবং ৩. মহররম। আর রজবও নিষিদ্ধ মাস, যা জমাদিউস সানি এবং শাবানের মাঝে অবস্থিত। এরপর তিনি বললেনঃ এটি কোন মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) এ ব্যাপারে অধিক জানেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। আমরা ভাবলাম যে, তিনি হয়ত এ মাসের নতুন কোন নাম বলবেন। এরপর তিনি বললেনঃ এ কি “যুলহিজ্জা” মাস নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যা। তিনি বললেনঃ এ কোন শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) অধিক জানেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়ত এর অপর কোন নাম রাখবেন। তিনি বললেনঃ এ কি (মক্কা) শহর নয়। আমরা বললাম, জী-হ্যা। তিনি বললেনঃ এ কোন দিন? আমরা বললাম আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) অধিক জ্ঞাত। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়ত এর অন্য কোন নাম বলবেন। তিনি বললেনঃ এ কি ইয়াওমুন্নাহার (ঈদুল আজহার দিন) নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যা, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ তোমাদের জান ও মাল এবং রাবী মুহাম্মাদ বলেন, আমি ধারণা করি এর সাথে তিনি তোমাদের মান-সম্ভ্রম এ কথা যুক্ত করে বললেনঃ এগুলো তেমন মর্যাদাপূর্ণ যেমন তোমাদের কাছে আজকের দিবস, এ নগর এবং এ মাসও পবিত্র। তোমরা খুব শীঘ্রই তোমাদের প্রভুর সাথে মিলিত হবে। তখন তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অতএব তোমরা আমার পরে পথভ্রষ্ট হয়ে একে অন্যের সাথে ঝগড়া-ফাসাদে লিপ্ত হয়ো না। সাবধান! তোমাদের উপস্থিতগণ অবশ্যই অনুপস্থিতদের কাছে আমার এ বাণী পৌঁছে দিবে। সম্ভবত উপস্থিত ব্যক্তি যাদের কাছে আমার বাণী পৌঁছে দিবে, তাঁরা কেউ কেউ হয়ত এখানকার শ্রোতাদের চেয়ে অধিকতর সংরক্ষণকারী হবে। এরপর তিনি বললেনঃ ওহে! শুনো, আমি কি আল্লাহর নির্দেশ পৌঁছে দেইনি? ইবনু হাবীব তাঁর বর্ণনায় ………………….. (রজব নিষিদ্ধ মাস) বর্ণনা করেছেন। আবু বকর (রাঃ)-এর অপর বর্ণনায় …………… (তোমরা আমার পরে ধর্মান্তরিত হয়ো না) বর্ণিত হয়েছে।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩৬, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪২৩৬

সহীহ মুসলিম হাদিস ৪২৭৫-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সময়, মাস, শহর ও দিনের পবিত্রতা স্মরণ করিয়ে মানুষের জান, মাল ও সম্মানের মর্যাদা বুঝিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বছর বার মাসের, তার মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস: যুলকআদা, যুলহিজ্জা, মহররম এবং রজব। এরপর তিনি যুলহিজ্জা মাস, মক্কা নগর এবং ইয়াওমুন্নাহারের কথা প্রশ্নের মাধ্যমে সাহাবাদের মনে গভীরভাবে বসিয়ে দেন। তারপর বলেন, তোমাদের জান, মাল এবং মান-সম্মান তোমাদের কাছে এ দিন, এ শহর ও এ মাসের মতো পবিত্র। তিনি আরও বলেন, মানুষ তাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এবং তাদের কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। তাই একে অন্যের সঙ্গে ঝগড়া-ফাসাদে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে। উপস্থিতদের অনুপস্থিতদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর নির্দেশও এখানে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মানুষের জান, মাল ও সম্মানকে পবিত্র মনে করতে হবে।
  • চারটি নিষিদ্ধ মাসের মর্যাদা হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে।
  • মানুষ নিজের কাজ সম্পর্কে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবে।
  • শোনা সত্য বার্তা অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছানো দায়িত্বের অংশ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন