২৯/৪. অধ্যায়ঃ
যখন কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির জীবন অথবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর আক্রমণ করে, তখন যদি আক্রান্ত ব্যক্তি তা প্রতিহত করে এবং প্রতিহত করার সময় আঘাতকারীর জীবন অথবা অঙ্গের ক্ষতিসাধন করে, তবে এর জন্য তাকে কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না
হাত কামড়ানো ও আত্মরক্ষার বিচার
সহীহ মুসলিম : ৪২৬০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪২৬০
حَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذٌ، - يَعْنِي ابْنَ هِشَامٍ - حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَجُلاً، عَضَّ ذِرَاعَ رَجُلٍ فَجَذَبَهُ فَسَقَطَتْ ثَنِيَّتُهُ فَرُفِعَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَبْطَلَهُ وَقَالَ " أَرَدْتَ أَنْ تَأْكُلَ لَحْمَهُ " .
ইমরান ইবনু হুসায়ন (রা.) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির হাতে কামড় বসিয়ে দিল। তখন সে সজোরে তার হাত টেনে নিল। এতে সে ব্যক্তির দাঁত খসে পড়ল। এ ব্যাপারে নবী (ﷺ)-এর নিকট অভিযোগ দায়ের করা হল। তখন তিনি তা নাকচ করে দেন এবং বলেন, “তুমি তো প্রতিপক্ষের গোশত খেতে চেয়েছিলে।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪২২১, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪২২১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪২৬০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির হাতে কামড় বসায়। কামড় খাওয়া ব্যক্তি সজোরে হাত টেনে নেয়। এতে কামড়দাতার দাঁত খসে পড়ে। বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আনা হলে তিনি অভিযোগ নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, তুমি তো প্রতিপক্ষের গোশত খেতে চেয়েছিলে। এই বাক্যে কামড় দেওয়ার কাজের অস্বাভাবিকতা ও ভুল দিকটি স্পষ্ট হয়েছে। হাদিসটির মূল টপিক হলো আত্মরক্ষা ও দিয়াত। এখানে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের হাত বাঁচাতে টেনে নিয়েছে, আর কামড়দাতা নিজের কাজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই দাঁত পড়ার ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের হাতে কামড় দেওয়া অন্যায় আচরণ হিসেবে এসেছে।
- আক্রান্ত ব্যক্তি হাত সরিয়ে নিজেকে রক্ষা করেছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) দাঁত পড়ার অভিযোগ নাকচ করেছেন।
- নিজের আক্রমণের ফল অন্যের ওপর চাপানো ঠিক নয়।
