২৮/৩. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, অতঃপর এটা না করাই উত্তম মনে করলে তা-ই করবে আর কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিবে।
খাবার না খাওয়ার কসম করলে কী করবেন
সহিহ মুসলিম : ৪১৬৩
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪১৬৩
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَعْتَمَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ رَجَعَ إِلَى أَهْلِهِ فَوَجَدَ الصِّبْيَةَ قَدْ نَامُوا فَأَتَاهُ أَهْلُهُ بِطَعَامِهِ فَحَلَفَ لاَ يَأْكُلُ مِنْ أَجْلِ صِبْيَتِهِ ثُمَّ بَدَا لَهُ فَأَكَلَ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيَأْتِهَا وَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ " .
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকটে গভীর রাত পর্যন্ত বিলম্ব করে। এরপর তার গৃহে গিয়ে দেখে যে, বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়েছে। তার স্ত্রী তার খাবার নিয়ে এলে সে সন্তানদের কারণে কসম করলো যে, সে খাবে না। পরে খাবার গ্রহণকে উচিত মনে করলে সে খেয়ে নিল। এরপর সে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁকে উক্ত ঘটনা বলে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম খায়, পরে অন্যটিকে তা থেকে উত্তম মনে করে, সে যেন তা করে ফেলে এবং নিজের কসমের কাফফারা দেয়।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪১২৫, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪০২৪
সহিহ মুসলিম হাদিস ৪১৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তির ঘটনা এসেছে। তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গভীর রাত পর্যন্ত ছিলেন। ঘরে ফিরে দেখলেন, বাচ্চারা ঘুমিয়ে গেছে। স্ত্রী খাবার আনলে তিনি সন্তানদের কারণে কসম করলেন যে, তিনি খাবেন না। পরে তাঁর মনে হলো, খাওয়াই ভালো। তাই তিনি খেয়ে নিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে ঘটনা বললেন। নবীজি বললেন, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে কসম করে, পরে অন্যটি তার চেয়ে ভালো মনে করে, সে যেন সেই কাজ করে এবং নিজের কসমের কাফফারা দেয়। এই হাদিস দৈনন্দিন জীবনের কসম নিয়ে খুব বাস্তব শিক্ষা দেয়। রাগ, কষ্ট বা আবেগে করা কসম পরে ভালো সিদ্ধান্তের পথে বাধা হলে কাফফারার মাধ্যমে সঠিক পথ নেওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আবেগে খাবার না খাওয়ার কসম করা পরে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
- কসমের পর ভালো কাজ মনে হলে তা করা উচিত।
- কসম ভাঙলে কাফফারা দিতে হবে।
- নিজের ঘটনা নবীজির কাছে জানিয়ে সঠিক শিক্ষা নেওয়া সাহাবীদের পদ্ধতি ছিল।
