১/৮৬. অধ্যায়ঃ
মহানাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মাহ্র শাফা’আতের জন্য তাঁর বিশেষ দু’আ গোপন (সংরক্ষণ) রেখেছেন
কবুল দোয়া সংরক্ষণ: নবী صلى الله عليه وسلم-এর উম্মতের জন্য শাফা‘আত
সহীহ মুসলিম : ৩৭৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৭৬
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ، - وَهُوَ ابْنُ الْقَعْقَاعِ - عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ يَدْعُو بِهَا فَيُسْتَجَابُ لَهُ فَيُؤْتَاهَا وَإِنِّي اخْتَبَأْتُ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لأُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন: প্রত্যেক নবীর জন্য একটি বিশেষ দোয়া আছে। (কিন্তু তাঁরা সে দোয়ার প্রয়োগ দুনিয়াতেই করে ফেলেছেন।) আমার বিশেষ দোয়াটি কেয়ামত দিবসে আমার উম্মতের শাফা’আতের জন্য গোপনে সংরক্ষিত রাখব বলে ইচ্ছা করেছি ইনশা-আল্লাহ।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৪, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৯৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, প্রত্যেক নবীর একটি গ্রহণযোগ্য দোয়া আছে। তাঁরা সেই দোয়া করেছেন এবং তা তাঁদের দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তিনি তাঁর দোয়াটি কিয়ামতের দিনে উম্মতের শাফা‘আত হিসেবে সংরক্ষণ করেছেন। এখানে ‘দোয়া’ ও ‘শাফা‘আত’—দুই বিষয় একসাথে এসেছে। দোয়া আল্লাহর কাছে চাওয়া, আর শাফা‘আত আল্লাহর অনুমতিতে কারও জন্য সুপারিশ করা। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর উম্মতের জন্য ভবিষ্যৎ দিনের সবচেয়ে দরকারি সময়ে বিশেষ দোয়া রেখে দিয়েছেন। এতে আশার বার্তা আছে, তবে আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতির বিষয়ও আছে। তাই হাদিসটি ঈমান, উম্মত, দোয়া ও শাফা‘আত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রত্যেক নবীর একটি বিশেষ কবুল দোয়া ছিল।
- নবী صلى الله عليه وسلم সেই দোয়া কিয়ামতের শাফা‘আতের জন্য সংরক্ষণ করেছেন।
- দোয়া ও শাফা‘আত—দুটিই আল্লাহর ইচ্ছার অধীন।
- উম্মতের প্রতি নবী صلى الله عليه وسلم-এর দয়া এই হাদিসে স্পষ্ট।
