২১/১. অধ্যায়ঃ
দাসের প্রয়োজন পূরণের বর্ণনা
সামর্থ্য অনুযায়ী দাসমুক্তি: কষ্ট না দেওয়ার বিধান
সহিহ মুসলিম : ৩৬৬৫
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৬৬৫
وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَعْتَقَ شِقْصًا لَهُ فِي عَبْدٍ فَخَلاَصُهُ فِي مَالِهِ إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ اسْتُسْعِيَ الْعَبْدُ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ " .
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি যৌথ মালিকানাধীন ক্রীতদাসের বেলায় নিজের অংশ মুক্ত করে দিবে বাকি অংশ তার সম্পদ দ্বারাই মুক্ত করবে। আর যদি সে বিত্তশালী না হয় তাহলে সে ক্রীতদাসকে উপার্জনের মাধ্যমে মুক্ত হওয়ার চেষ্টায় নিযুক্ত করতে হবে। তবে তার উপর তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপানো যাবে না।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩১, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৬৩১
সহিহ মুসলিম হাদিস ৩৬৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যৌথ মালিকানাধীন ক্রীতদাস মুক্তির আরেকটি স্পষ্ট দিক এসেছে। যে ব্যক্তি নিজের অংশ মুক্ত করে, তার সম্পদ থাকলে বাকি অংশও তার সম্পদ দিয়ে মুক্ত করা হবে। কিন্তু যদি তার সম্পদ না থাকে, তাহলে ক্রীতদাসকে উপার্জনের মাধ্যমে বাকি অংশ মুক্ত হওয়ার চেষ্টায় নিযুক্ত করা হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, তার উপর সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপানো যাবে না। এই হাদিসে দাসমুক্তি, সামর্থ্য, উপার্জন এবং দয়া—সব একসঙ্গে আছে। এখানে শুধু আইনি হিসাব নয়, মানুষের কষ্টের কথাও দেখা হয়েছে। অর্থ আছে কি নেই—তার ভিত্তিতে বিধানের ধরন আলাদা হয়েছে। তাই এটি ন্যায়, সহনশীলতা এবং বাস্তব ক্ষমতার প্রতি খেয়াল রাখার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ থাকলে বাকি অংশ মুক্ত করার দায় আসে।
- সম্পদ না থাকলে উপার্জনের মাধ্যমে মুক্তির চেষ্টা করা যেতে পারে।
- ক্রীতদাসের উপর সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপানো যাবে না।
- মুক্তির পথে ন্যায় ও সহজতার দিক বিবেচনা করা হয়েছে।
