২১/১. অধ্যায়ঃ
দাসের প্রয়োজন পূরণের বর্ণনা
যৌথ ক্রীতদাস মুক্তি: ন্যায্য মূল্য ও দায়িত্ব
সহীহ মুসলিম : ৩৬৬২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৬৬২
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قُلْتُ لِمَالِكٍ حَدَّثَكَ نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ فَكَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَ الْعَبْدِ قُوِّمَ عَلَيْهِ قِيمَةَ الْعَدْلِ فَأُعْطِيَ شُرَكَاؤُهُ حِصَصَهُمْ وَعَتَقَ عَلَيْهِ الْعَبْدُ وَإِلاَّ فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ" .
ইবনু ‘উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শরীক (যৌথ মালিকানাধীন) ক্রীতদাসের বেলায় তার নিজের অংশটুকু মুক্ত করে দেয় এবং তার (মুক্তিদাতার) কাছে এ পরিমাণ ধন-সম্পদ থাকে যা উক্ত ক্রীতদাসের মূল্য সমান হয়- তবে ন্যায়সঙ্গতভাবে মূল্য নিরূপণ করবে এবং বাকি অংশীদারদের অংশের মূল্যও তাকে পরিশোধ করতে হবে। আর ক্রীতদাসটি পুরোপুরি ভাবে তার পক্ষ থেকেই মুক্ত করা হবে। তবে যদি সে (পুরো অংশের মূল্য পরিশোধে) সক্ষম না হয় তাহলে সে যতটুকু অংশ মুক্ত করেছে ততটুকু মুক্ত হয়ে যাবে।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬২৮, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৬২৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যৌথ মালিকানাধীন ক্রীতদাস মুক্ত করার বিধান এসেছে। কেউ যদি এমন ক্রীতদাসের নিজের অংশ মুক্ত করে এবং তার কাছে পুরো ক্রীতদাসের দামের সমপরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে ন্যায়সঙ্গতভাবে মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। তারপর বাকি অংশীদারদের তাদের অংশের মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এতে ক্রীতদাসটি মুক্তিদাতার পক্ষ থেকেই পুরোপুরি মুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি মুক্তিদাতা পুরো মূল্য দিতে সক্ষম না হয়, তাহলে সে যতটুকু অংশ মুক্ত করেছে, ততটুকুই মুক্ত হবে। এই হাদিসে দাসমুক্তি, যৌথ মালিকানা, ন্যায্য মূল্য এবং অন্য অংশীদারের অধিকার—সবকিছু ভারসাম্যসহ এসেছে। এখানে একদিকে মুক্তির পথ আছে, অন্যদিকে অন্য মালিকদের ক্ষতিও করা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যৌথ মালিকানায় কারও অংশ মুক্ত করলে বাকি অংশীদারের অধিকার আছে।
- সক্ষম হলে ন্যায্য মূল্য দিয়ে ক্রীতদাসকে পুরোপুরি মুক্ত করতে হয়।
- অর্থ না থাকলে যতটুকু মুক্ত করা হয়েছে, ততটুকুই মুক্ত হবে।
- মুক্তির কাজেও ন্যায় ও হিসাবের গুরুত্ব আছে।
