১৯/৯. অধ্যায়ঃ
স্বামীর মৃত্যুকালীন ‘ইদ্দাতে বিধবা স্ত্রীর শোক পালন করা ওয়াজিব এবং অন্যান্যদের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হারাম
ইদ্দতের সময় কুস্ত ও আজফার ব্যবহারের অনুমতি
সহীহ মুসলিম : ৩৬৩৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৬৩৩
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، كِلاَهُمَا عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالاَ " عِنْدَ أَدْنَى طُهْرِهَا نُبْذَةً مِنْ قُسْطٍ وَأَظْفَارٍ " .
হিশাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে এ হাদীসে আমর আন নাকিদ ও ইয়াযীদ ইবন হারূন (রহঃ) উভয়ে বর্ণনা করেছেন যে, সে তার হায়জ থেকে পবিত্র হওয়ার পর কুস্ত ও আজফার নামক সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৯৯, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৫৯৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসটি আগের বর্ণনার অনুরূপ, তবে একটি দিক স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুতে ইদ্দত পালনকারী নারী সাধারণভাবে সুগন্ধি ব্যবহার করবে না। কিন্তু হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার পর সামান্য কুস্ত ও আজফার নামের সুগন্ধি ব্যবহারের কথা এসেছে। এখানে উদ্দেশ্য সাজগোজ নয়; বরং পবিত্রতার পর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার। তাই “ইদ্দতে সুগন্ধি ব্যবহার” বিষয়টি বুঝতে এই হাদিস সাহায্য করে। হাদিসটি শোকের সময় আচরণে ভারসাম্য শেখায়। একদিকে সুগন্ধি ও সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, অন্যদিকে পবিত্রতার নির্দিষ্ট অবস্থায় সামান্য ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তাই বিধানকে অতি কঠিন করে দেখা বা ঢিলেঢালা করা—দুটিই ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইদ্দতকালে সাধারণভাবে সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না।
- হায়েয থেকে পবিত্র হলে সামান্য কুস্ত ও আজফার ব্যবহারের অনুমতি এসেছে।
- এই অনুমতি সাজসজ্জার জন্য নয়, পবিত্রতার পর প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত।
- শোকের বিধানে সংযম ও সহজতা—দুয়ের দিকই আছে।
