১৯/৪. অধ্যায়ঃ
ইখ্তিয়ার প্রদান করলে ত্বলাক্বের নিয়্যাত না করলে ত্বলাক্ব হবে না
স্ত্রী স্বামীকে বেছে নিলে ইখতিয়ার তালাক নয়
সহীহ মুসলিম : ৩৫৭৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৭৭
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي، خَالِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ مَا أُبَالِي خَيَّرْتُ امْرَأَتِي وَاحِدَةً أَوْ مِائَةً أَوْ أَلْفًا بَعْدَ أَنْ تَخْتَارَنِي وَلَقَدْ سَأَلْتُ عَائِشَةَ فَقَالَتْ قَدْ خَيَّرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفَكَانَ طَلاَقًا.
মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার স্ত্রীকে ইখতিয়ার প্রদানে আমার কোন পরোয়া নেই—একবার, শতবার কিংবা হাজারবার যদি সে আমাকে পছন্দ করে থাকে। আর আমি আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে ইখতিয়ার প্রদান করেছিলেন। এতে কি তালাক হয়ে গিয়েছে? (না, এতে তালাক হয় নি)।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৫৪৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মাসরূক (রহঃ)-এর বক্তব্য এসেছে। তিনি বলেন, স্ত্রীকে একবার, শতবার বা হাজারবার ইখতিয়ার দিলেও—যদি সে স্বামীকে বেছে নেয়—তাতে তাঁর কোনো পরোয়া নেই। এরপর তিনি জানান, তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন: রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আমাদের ইখতিয়ার দিয়েছিলেন, এতে কি তালাক হয়েছিল? অর্থাৎ উত্তর ছিল—না, তালাক হয়নি। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ইখতিয়ার দেওয়ার ফল বুঝতে স্ত্রীর নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্ত্রী স্বামীকে বেছে নেয়, এই বর্ণনার আলোকে সেটি তালাক হিসেবে গণ্য হয়নি। তবে হাদিসটি নিজের মতো করে বাড়িয়ে বলা উচিত নয়। এখানে নির্দিষ্ট ঘটনার ভিত্তিতে বলা হয়েছে যে নবীজির স্ত্রীগণ তাঁকে বেছে নিয়েছিলেন, তাই তা তালাক ছিল না। এতে তালাকের বিষয়ে শব্দ, উদ্দেশ্য ও ফলাফলের গুরুত্ব বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্ত্রী স্বামীকে বেছে নিলে এই বর্ণনায় ইখতিয়ার তালাক হয়নি।
- দাম্পত্য কথার ফল বুঝতে নির্বাচন ও উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ।
- আয়েশা (রাঃ)-এর বর্ণনা তালাকের বিষয়ে স্পষ্টতা দেয়।
- তালাকের মতো বিষয়ে আবেগ নয়, জ্ঞানভিত্তিক বোঝাপড়া দরকার।
