১৯/১. অধ্যায়ঃ
সম্মতি ব্যতীত ঋতুমতীকে ত্বলাক্ব প্রদান হারাম, যদি ত্বলাক্ব দেয় তবে ত্বলাক্ব হয়ে যাবে এবং ত্বলাক্ব প্রদানকারীকে রাজ‘আতের (স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিতে হবে
হায়েয অবস্থায় তালাক ও ইদ্দতের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৩৫৪৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৪৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيَتْرُكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ ثُمَّ تَطْهُرَ ثُمَّ إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ بَعْدُ وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ" .
নাফি’ (রহঃ)-এর সূত্রে ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর সময়কালে তিনি (ইবন উমর) তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলেন। তখন উমর (রাঃ) এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন, তাকে [‘‘আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে] আদেশ কর, যেন সে তাকে (স্ত্রীকে) রাজ‘আত করে (পুনঃ স্ত্রীরূপে গ্রহণ করে) নেয়।অতঃপর তার (হায়েজ হতে) পবিত্র হবার পরে পুনঃ হায়েয এবং তার পরে পুনঃ পবিত্র (তুহর) হওয়া পর্যন্ত তাকে স্থিতাবস্থায় রেখে দেয়। এরপর পরবর্তী সময় তার ইচ্ছা হলে তাকে (স্ত্রী রূপে) রেখে দিবে। আর ইচ্ছে হলে সহবাসের পূর্বে তাকে তালাক দিবে। এটা হল সে ‘ইদ্দত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তালাক দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ আদেশ করেছেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫১৬, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৫১৫[ক][৫৬] “হে নাবী তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীদেরকে ত্বলাক্ব দিতে ইচ্ছে কর, তখন তাদের ত্বলাক্ব দিও ‘ইদ্দাতের প্রতি লক্ষ্য রেখে......” –(সূরাহ্ আত্ ত্বলাক্ব ৬৫ ঃ ১)। এ আয়াতের প্রতি ইশারা করে।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবন উমর রা.-এর ঘটনা এসেছে। তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সময়ে তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেন। উমর রা. বিষয়টি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে জিজ্ঞেস করেন। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, ইবন উমর যেন স্ত্রীকে রাজআত করে, অর্থাৎ আবার স্ত্রীরূপে গ্রহণ করে। এরপর স্ত্রী পবিত্র হবে, আবার হায়েয হবে, তারপর আবার পবিত্র হবে—এই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। এরপর ইচ্ছা হলে স্ত্রীকে রেখে দেবে, আর ইচ্ছা হলে সহবাসের আগে তালাক দেবে। হাদিসে এটিকে সেই ইদ্দত বলা হয়েছে, যার প্রতি লক্ষ্য রেখে আল্লাহ স্ত্রীদের তালাক দিতে বলেছেন। এই হাদিস তালাক বিধান, হায়েয অবস্থায় তালাক, রাজআত এবং ইদ্দত মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েয অবস্থায় তালাক দেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা আছে।
- ভুলভাবে তালাক দিলে রাজআতের নির্দেশ এসেছে।
- তালাক আবেগের বিষয় নয়; ইদ্দত ও সময়ের বিধান মানতে হয়।
- সহবাসের আগে পবিত্র অবস্থায় তালাকের নির্দেশ এই বর্ণনায় এসেছে।
