১৮/১৯. অধ্যায়ঃ
হাওয়া (‘আঃ)-এর অপরাধ না ঘটলে কোন নারীই স্বামীর খিয়ানাত করত না
হাওয়া আ. প্রসঙ্গে স্বামীর বিশ্বাসের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৩৫৪২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৪২
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا يُونُسَ، مَوْلَى أَبِي هُرَيْرَةَ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْلاَ حَوَّاءُ لَمْ تَخُنْ أُنْثَى زَوْجَهَا الدَّهْرَ " .
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) সূত্রে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিতঃ
যদি হাওয়া (আঃ) না হতেন তবে যুগ যুগান্তরে কোনো নারী তার স্বামীর বিশ্বাস ভঙ্গ করত না।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫১৪, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৫১৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم হাওয়া আ.-এর প্রসঙ্গে বলেছেন, যদি হাওয়া আ. না হতেন, তবে কোনো নারী যুগ যুগ ধরে তার স্বামীর বিশ্বাস ভঙ্গ করত না। বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত এবং এতে বড় একটি বিষয় ইঙ্গিত আকারে এসেছে। তাই এখানে অতিরিক্ত গল্প বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা যোগ করা ঠিক নয়। হাদিসের শব্দ অনুযায়ী, এটি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, বিশ্বাস এবং মানব জীবনের এক বাস্তব দিকের দিকে ইঙ্গিত করে। এই বর্ণনা থেকে সরাসরি কোনো নারীকে অপমান করার শিক্ষা নেওয়া যাবে না; বরং হাদিসটিকে তার ভাষার সীমার মধ্যে বুঝতে হবে। ইসলামী স্কলারদের মতে, এমন বর্ণনা ব্যাখ্যার সময় নববী ভাষার উদ্দেশ্য, আদব এবং শরিয়তের অন্য শিক্ষাগুলোর সঙ্গে মিল রেখে সতর্কভাবে বুঝতে হয়। তাই মূল শিক্ষা হলো দাম্পত্য সম্পর্কে বিশ্বাস রক্ষা করা এবং কথাকে অতিরঞ্জিত না করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে বিশ্বাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- সংক্ষিপ্ত বর্ণনা থেকে অতিরিক্ত দাবি করা উচিত নয়।
- হাদিসের ভাষা সতর্কভাবে এবং আদবের সঙ্গে বুঝতে হয়।
- দাম্পত্য জীবনে বিশ্বাস ভঙ্গ থেকে বাঁচার শিক্ষা নেওয়া যায়।
