১৬/৭২. অধ্যায়ঃ
নাবালকের হাজ্জ করা জায়িয এবং যে ব্যক্তি তাকে হাজ্জ করতে সহায়তা করে, সে সাওয়াবের অধিকারী হবে
শিশুর হজ্জ: মায়ের জন্য সওয়াবের বর্ণনা
সহীহ মুসলিম : ৩১৪৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩১৪৪
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ، عُيَيْنَةَ - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، - عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَقِيَ رَكْبًا بِالرَّوْحَاءِ فَقَالَ " مَنِ الْقَوْمُ " . قَالُوا الْمُسْلِمُونَ . فَقَالُوا مَنْ أَنْتَ قَالَ " رَسُولُ اللَّهِ " . فَرَفَعَتْ إِلَيْهِ امْرَأَةٌ صَبِيًّا فَقَالَتْ أَلِهَذَا حَجٌّ قَالَ " نَعَمْ وَلَكِ أَجْرٌ " .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) 'রাওহা' নামক স্থানে একদল আরোহীর সাক্ষাৎ পেলেন এবং তিনি বললেন, “তোমরা কোন সম্প্রদায়ের লোক?” তারা বলল, “আমরা মুসলিম।” তারা আরও জিজ্ঞেস করল, “আপনি কে?” তিনি বললেন, “আল্লাহর রসূল।” এরপর এক মহিলা তাঁর সামনে একটি শিশুকে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করল, “এর জন্য হজ্জ আছে কি?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ এবং তোমার জন্য সওয়াব রয়েছে।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩১১৯, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩১১৬[৩৪] এ হাদীস হতে কয়েকটি মাসআলাহ্ অবগত হওয়া যায়- (১) আমাদের জন্য মুসলিম উপাধি আখ্যা দেয়াই আসল, সহীহ এবং সুন্নাতী তরীকা, এটা ব্যতীত যেসব উপাধি প্রচলিত আছে যেমন হানাফী, শাফি’ঈ, হাম্বালী, মালিকী, চিশতী, নকশাবন্দী, কাদিরী ইত্যাদি নিখাত বিদ’আত এবং নবাবিষ্কৃত বিষয় । অতএব মু’মিন বান্দার নবাবিষ্কৃত উপাধি পরিহার করে সুন্নাতী উপাধি ধারণ করা কর্তব্য । (২) ছোট্ট বালকের হাজ্জ পালন সহীহ ও শারী’আত সম্মত এতে সাওয়াবের অধিকারী হবে । ইমাম শাফি’ঈ, আহমাদ, মালিক (রহঃ) এবং অধিকাংশ উলামার অভিমত এটাই, তবে এ হাজ্জটি নাফ্ল হিসেবে গণ্য হবে । এ হাদীসটিও তাদের দলীল । অন্যদিকে ইমাম হানিফা (রহঃ)-এর মত এর ব্যতিক্রম । তার মতে ছোট বাচ্চার হাজ্জ সহীহ নয়- এ মতটি হাদীসের বিপরীত হওয়ার কারণে বাতিল, প্রত্যাখ্যাত ও পরিত্যাজ্য । শুধু তার কথা কেন যার কথাই বা মত হাদীসের বিপরীত হবে তা বাতিল বলে গণ্য হয় । ক্বাযী আয়ায বলেছেন যে, একদল বিদ’আতী ব্যতীত বালকের হাজ্জ জায়িয হওয়ার বিষয়ে কারও মতবিরোধ নেই, ছোট্ট শিশুর ‘ইবাদাতের সাওয়াব তার পিতা-মাতার উপর বর্তাবে । এজন্য সে যদি হাজ্জ করে, অতঃপর বালেগ হওয়ার হাজ্জ করার সামর্থ্য লাভ করে তবে তার উপর আবার হাজ্জ করা ফারয্ ।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩১৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাওহা নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم একদল আরোহীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তারা কোন সম্প্রদায়ের লোক। তারা বলে, তারা মুসলিম। এরপর তারা জানতে চায়, তিনি কে। তিনি বলেন, তিনি আল্লাহর রসূল। তখন এক মহিলা একটি শিশুকে তাঁর সামনে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করেন, এই শিশুর জন্য হজ্জ আছে কি? নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, “হ্যাঁ এবং তোমার জন্য সওয়াব রয়েছে।” এই হাদিসে শিশুর হজ্জ বিষয়ে সরাসরি উত্তর এসেছে। শিশুটি নিজে প্রশ্ন করতে পারে না, কিন্তু অভিভাবক তাকে নিয়ে হজ্জে অংশ করালে তার হজ্জের কথা বলা হয়েছে এবং মায়ের জন্য সওয়াবের কথা এসেছে। এখানে অতিরিক্ত কোনো দাবি নেই; মূল কথা হলো শিশুর হজ্জ ও অভিভাবকের সওয়াব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিশুর জন্য হজ্জ আছে—নবী صلى الله عليه وسلم সরাসরি বলেছেন।
- শিশুকে হজ্জে নিয়ে আসা অভিভাবকের জন্য সওয়াবের কথা এসেছে।
- মহিলা প্রশ্ন করে মাসআলা জেনে নিয়েছেন।
- হাদিসে শিশুর হজ্জকে সহজ ভাষায় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
