১৬/৬৪. অধ্যায়ঃ
যে নিজে (মাক্কাতে) যেতে ইচ্ছা রাখে না, তার পক্ষে কুরবানীর পশু হারামে পাঠানো ও গলায় মালা পরানো এবং মালা পাকানো মুস্তাহাব, আর (প্রেরক) ইহরামকারীর অনুরূপ হবে না এবং এ কারণে তার উপর (ইহরামধারীদের মতো) কোন কিছু হারাম হবে না
হাদী পাঠানো ও ইহরামের পার্থক্য
সহিহ মুসলিম : ৩০৯৬
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩০৯৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَمْرَةَ، بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ ابْنَ زِيَادٍ كَتَبَ إِلَى عَائِشَةَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ قَالَ مَنْ أَهْدَى هَدْيًا حَرُمَ عَلَيْهِ مَا يَحْرُمُ عَلَى الْحَاجِّ حَتَّى يُنْحَرَ الْهَدْىُ وَقَدْ بَعَثْتُ بِهَدْيِي فَاكْتُبِي إِلَىَّ بِأَمْرِكِ . قَالَتْ عَمْرَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ لَيْسَ كَمَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَا فَتَلْتُ قَلاَئِدَ هَدْىِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدَىَّ ثُمَّ قَلَّدَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ ثُمَّ بَعَثَ بِهَا مَعَ أَبِي فَلَمْ يَحْرُمْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَىْءٌ أَحَلَّهُ اللَّهُ لَهُ حَتَّى نُحِرَ الْهَدْىُ .
‘আম্রাহ্ বিনতু ‘আবদূর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু জিয়াদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে লিখেন যে, আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন: “যে ব্যক্তি (মক্কার হারামে) কুরবানির পশু পাঠায়, হাজীদের জন্য যা করা হারাম তার জন্যও তা করা হারাম যতক্ষণ না ঐ পশু কুরবানি করা হয়। আমি কুরবানির পশু (হারামে) পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত আমাকে লিখে জানাবেন।”আমরা (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) বললেন, “ইবন আব্বাস (রাঃ) যেভাবে বলেছেন, ব্যাপারটি তা নয়। আমি নিজ হাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কুরবানির পশুর (গলায় বাঁধার) জন্য মালা তৈরি করে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ হাতে তা পশুর গলায় বেঁধেছেন, অতঃপর আমার পিতার মাধ্যমে তা (হারাম শরীফে) পাঠিয়েছেন। কিন্তু এর ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর এমন কোন জিনিস হারাম হয়নি- যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর জন্য হালাল করেছেন। অতঃপর পশু কুরবানি করা হয়েছে।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩০৭১, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩০৬৮
সহিহ মুসলিম হাদিস ৩০৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি প্রশ্ন ও জবাব এসেছে। ইবনু জিয়াদ আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে লিখলেন যে, ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেন—যে ব্যক্তি মক্কার হারামে কুরবানির পশু পাঠায়, তার জন্য হাজীদের মতো কিছু কাজ হারাম হয়, যতক্ষণ না পশু কুরবানি করা হয়। এর জবাবে আয়িশা (রাঃ) বলেন, ব্যাপারটি এমন নয়। তিনি নিজ হাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কুরবানির পশুর মালা তৈরি করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজ হাতে তা পশুর গলায় বেঁধে তাঁর পিতার মাধ্যমে পাঠান। কিন্তু আল্লাহ যা তাঁর জন্য হালাল করেছিলেন, তার কিছুই তাঁর ওপর হারাম হয়নি, যতক্ষণ না পশু কুরবানি করা হয়। এই হাদিসটি হাদী পাঠানো ও ইহরামের বিধান আলাদা করে বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদী পাঠানো নিয়ে সাহাবীদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছিল।
- আয়িশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বাস্তব আমল দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।
- শুধু কুরবানির পশু পাঠানো ব্যক্তির হালাল জিনিসকে হারাম করে না।
