১৬/৬৪. অধ্যায়ঃ
যে নিজে (মাক্কাতে) যেতে ইচ্ছা রাখে না, তার পক্ষে কুরবানীর পশু হারামে পাঠানো ও গলায় মালা পরানো এবং মালা পাকানো মুস্তাহাব, আর (প্রেরক) ইহরামকারীর অনুরূপ হবে না এবং এ কারণে তার উপর (ইহরামধারীদের মতো) কোন কিছু হারাম হবে না
হাদী পাঠানো ও হালাল অবস্থায় থাকা
সহীহ মুসলিম : ৩০৮৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩০৮৯
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا أَفْلَحُ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ فَتَلْتُ قَلاَئِدَ بُدْنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدَىَّ ثُمَّ أَشْعَرَهَا وَقَلَّدَهَا ثُمَّ بَعَثَ بِهَا إِلَى الْبَيْتِ وَأَقَامَ بِالْمَدِينَةِ فَمَا حَرُمَ عَلَيْهِ شَىْءٌ كَانَ لَهُ حِلاًّ .
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নিজ হাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কুরবানির পশুর মালা বানিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি কুরবানির পশুকে চিহ্নিত করেন ও গলায় মালা বেঁধে দেন। এরপর তিনি বায়তুল্লাহ পাঠিয়ে দেন এবং মদিনায় অবস্থান করেন। ফলে তাঁর উপর এমন কোনো জিনিস হারাম হয়নি যা তাঁর জন্য হালাল ছিল।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩০৬৪, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩০৬১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩০৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) নিজের হাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কুরবানির পশুর মালা বানানোর কথা বলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) পশুকে চিহ্নিত করেন, গলায় মালা বাঁধেন এবং বায়তুল্লাহর দিকে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু তিনি নিজে মদিনায় অবস্থান করেন। ফলে তাঁর জন্য এমন কোনো জিনিস হারাম হয়নি, যা আগে তাঁর জন্য হালাল ছিল। এই বর্ণনায় দুটি বিষয় পরিষ্কার: কুরবানির পশু চিহ্নিত করা এবং মালা পরিয়ে হারামে পাঠানো একটি আলাদা কাজ; আর ইহরামের বিধান আলাদা। হাদিসটি “হাদী পাঠানোর বিধান” বিষয়ে খুব দরকারি, কারণ এতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নিজের আমল উল্লেখ আছে। তবে এর বাইরে কোনো বাড়তি দাবি না করে হাদিসের সরাসরি কথাতেই থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানির পশু চিহ্নিত করে হারামে পাঠানো রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলে ছিল।
- হাদী পাঠানোর পরও তিনি মদিনায় হালাল অবস্থায় ছিলেন।
- হালাল জিনিস কেবল পশু পাঠানোর কারণে হারাম হয়ে যায়নি।
