১৬/৬৪. অধ্যায়ঃ
যে নিজে (মাক্কাতে) যেতে ইচ্ছা রাখে না, তার পক্ষে কুরবানীর পশু হারামে পাঠানো ও গলায় মালা পরানো এবং মালা পাকানো মুস্তাহাব, আর (প্রেরক) ইহরামকারীর অনুরূপ হবে না এবং এ কারণে তার উপর (ইহরামধারীদের মতো) কোন কিছু হারাম হবে না
হাদী পাঠালেই ইহরামের বিধান আসে না
সহিহ মুসলিম : ৩০৮৮
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩০৮৮
وَحَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، تَقُولُ كُنْتُ أَفْتِلُ قَلاَئِدَ هَدْىِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدَىَّ هَاتَيْنِ ثُمَّ لاَ يَعْتَزِلُ شَيْئًا وَلاَ يَتْرُكُهُ.
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আমার হাত দিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কুরবানির পশুর মালা বানিয়ে দিতাম। এরপর তিনি কোনো জিনিস থেকে বিরত থাকতেন না এবং তা পরিহার করতেন না (যা হজ্জের ইহরামধারীকে পরিহার করতে হয়)।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩০৬৩, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩০৬০
সহিহ মুসলিম হাদিস ৩০৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি নিজের হাত দিয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কুরবানির পশুর মালা বানিয়ে দিতেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এমন কোনো জিনিস থেকে বিরত থাকতেন না, যা হজ্জের ইহরামধারীর জন্য বর্জনীয়। এখানে প্রধান শিক্ষা হলো—শুধু কুরবানির পশু হারামে পাঠানো বা তার জন্য মালা তৈরি করা মানেই ইহরাম শুরু হওয়া নয়। হাদিসের ভাষায় বিষয়টি খুব সরলভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) হাদী পাঠানোর পরও সাধারণ অবস্থায় ছিলেন। তাই “হাদী পাঠালে ইহরাম হয় কি” ধরনের প্রশ্নে এই বর্ণনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানে যে কথা বলা হয়েছে, তা এই নির্দিষ্ট অবস্থার কথা—পশু পাঠানো হয়েছে, কিন্তু তিনি নিজে ইহরামে প্রবেশ করেননি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানির পশুর মালা তৈরি করা হাদী পাঠানোর প্রস্তুতির অংশ ছিল।
- শুধু হাদী পাঠানো ব্যক্তিকে মুহরিম বানিয়ে দেয় না।
- হাদিসটি ইহরাম ও হাদী পাঠানোর পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে।
