১/৭৩. অধ্যায়ঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ওয়াহীর সূচনা

কোন আয়াত আগে নাজিল হলো: মুদ্দাসসিরের বর্ণনা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৯৮

وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى، يَقُولُ سَأَلْتُ أَبَا سَلَمَةَ أَىُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ قَبْلُ قَالَ يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ ‏.‏ فَقُلْتُ أَوِ اقْرَأْ ‏.‏ فَقَالَ سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ أَىُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ قَبْلُ قَالَ يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ ‏.‏ فَقُلْتُ أَوِ اقْرَأْ قَالَ جَابِرٌ أُحَدِّثُكُمْ مَا حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ جَاوَرْتُ بِحِرَاءٍ شَهْرًا فَلَمَّا قَضَيْتُ جِوَارِي نَزَلْتُ فَاسْتَبْطَنْتُ بَطْنَ الْوَادِي فَنُودِيتُ فَنَظَرْتُ أَمَامِي وَخَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي فَلَمْ أَرَ أَحَدًا ثُمَّ نُودِيتُ فَنَظَرْتُ فَلَمْ أَرَ أَحَدًا ثُمَّ نُودِيتُ فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَإِذَا هُوَ عَلَى الْعَرْشِ فِي الْهَوَاءِ - يَعْنِي جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ - فَأَخَذَتْنِي رَجْفَةٌ شَدِيدَةٌ فَأَتَيْتُ خَدِيجَةَ فَقُلْتُ دَثِّرُونِي ‏.‏ فَدَثَّرُونِي فَصَبُّوا عَلَىَّ مَاءً فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏{‏ يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ * قُمْ فَأَنْذِرْ * وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ * وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ‏}‏ ‏"‏ ‏.‏

ইয়াহ্‌ইয়া (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি আবু সালামাকে জিজ্ঞেস করলাম, কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ (সূরা আল মুদ্দাসসির ৭৪ : ১-৫)। আমি বললাম, اقْرَأْ (সূরা আল ‘আলাক ৯৬ : ১-৫)। তিনি বললেন, আমিও জাবির ইবন আবদুল্লাহকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কুরআনের কোন আয়াতটি প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম, জাবির (রাঃ) বললেন, আমি তোমাদেরই তাই বর্ণনা করছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের যা বর্ণনা করেছেন। আমি একমাস হেরা গুহায় অবস্থান করি। অবস্থান শেষে আমি নিচে নেমে এলাম। উপত্যকার মাঝখানে যখন পৌঁছলাম তখন আমাকে ডাকা হলো। আমি সামনে-পেছনে, ডানে-বামে তাকালাম, কাউকে দেখলাম না। তারপর আমাকে ডাকা হলো, তখনও কাউকে দেখতে পেলাম না। পুনঃ আমাকে ডাকা হলো। আমি তাকালাম, দেখি সে ফেরেশতা অর্থাৎ জিবরীল (আঃ) শূন্যে একটি কুরসির উপর উপবিষ্ট। আবার প্রবল কম্পন শুরু হলো। অনন্তর খাদিজার নিকট আসলাম। বললাম, তোমরা আমার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দাও, তোমরা আমার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দাও। তারা আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিল। আমার উপর পানি ঢাললো। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ “হে কম্বল জড়ানো ব্যক্তি! উঠুন সতর্কবাণী প্রচার করুন, আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন, আপনার পরিচ্ছেদ পবিত্র রাখুন”-(সূরা আল মুদ্দাসসির ৭৪ : ১-৪)।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩০৬, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩১৭

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৯৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইয়াহইয়া আবু সালামাকে জিজ্ঞেস করেন, কুরআনের কোন আয়াত প্রথম নাজিল হয়েছে। আবু সালামা উত্তর দেন—“ইয়া আইয়ুহাল মুদ্দাসসির।” তখন তাঁকে “ইকরা” আয়াতের কথা বলা হয়। তিনি জানান, জাবির (রাঃ)-কেও একই প্রশ্ন করা হয়েছিল এবং জাবির (রাঃ) রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বর্ণনা অনুযায়ী মুদ্দাসসিরের ঘটনা বলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) এক মাস হেরা গুহায় অবস্থান করার পর নেমে আসেন। উপত্যকায় তাঁকে ডাকা হয়। তিনি বিভিন্ন দিকে তাকান, কাউকে দেখেন না। পরে মাথা তুলে দেখেন, জিবরীল (আঃ) শূন্যে একটি কুরসির উপর বসে আছেন। এতে প্রবল কম্পন শুরু হয়। খাদিজা (রাঃ)-এর কাছে এসে তিনি কম্বল জড়াতে বলেন। এরপর সূরা আল মুদ্দাসসিরের আয়াত নাজিল হয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • এই বর্ণনায় সূরা মুদ্দাসসির নাজিলের ঘটনা বিশেষভাবে এসেছে।
  • জিবরীল (আঃ)-কে দেখে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রবল কম্পনের কথা বর্ণিত হয়েছে।
  • আল্লাহর বার্তায় সতর্ক করা, বড়ত্ব ঘোষণা ও পবিত্রতার নির্দেশ এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন