১৬/৪৩. অধ্যায়ঃ
সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো (সা‘ঈ) হাজ্জের অন্যতম রুকন, এ ছাড়া হাজ্জ শুদ্ধ হয় না
আনসারদের সংকোচ দূর করল সাঈর আয়াত
সহীহ মুসলিম : ২৯৭৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৯৭৪
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَتِ الأَنْصَارُ يَكْرَهُونَ أَنْ يَطُوفُوا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ حَتَّى نَزَلَتْ { إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا}
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আনসারগণ সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফকে খারাপ কাজ মনে করত। অতএব এই সঙ্গে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয় : “সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। অতএব যে কোন ব্যক্তি বায়তুল্লাহর হজ্জ অথবা উমরা পালন করে এতদুভয়ের মাঝে তওয়াফ করলে, তার কোন দোষ নেই ......।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৯৫০, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৯৪৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৯৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) জানান, আনসারগণ সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফ বা সাঈ করাকে খারাপ কাজ মনে করত। এরপর আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন—সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম; যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহর হজ্জ অথবা উমরা পালন করে, সে এ দুটির মাঝে তওয়াফ করলে তার কোনো দোষ নেই। বর্ণনাটি ছোট হলেও বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে দেখা যায়, কোনো আমল নিয়ে মানুষের মনে সংকোচ থাকতে পারে; কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ নাযিল হলে সেই সংকোচ দূর হয়ে যায়। সাফা-মারওয়া সাঈ তাই জাহিলী যুগের ভুল ধারণার সঙ্গে বাঁধা নয়; বরং হজ্জ ও উমরার সঙ্গে যুক্ত একটি স্বীকৃত আমল। এই হাদিস সাঈর আয়াত, আনসারদের ধারণা এবং সঠিক ইসলামী নির্দেশ বোঝার জন্য দরকারি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের অপছন্দ কোনো ইবাদতের আসল বিধান নির্ধারণ করে না।
- সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে কুরআনে উল্লেখিত।
- আল্লাহর নির্দেশ আসলে পূর্বের সংকোচ দূর করা উচিত।
- হজ্জ ও উমরার আমলে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশই মূল।
