১/৭২. অধ্যায়ঃ

যে সময়ে ঈমান কবূল হবে না

সূর্যের গন্তব্য ও পশ্চিম দিক থেকে উদয়ের হাদিস

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮৯

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، - قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، - حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَزِيدَ التَّيْمِيِّ، - سَمِعَهُ فِيمَا، أَعْلَمُ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَوْمًا ‏"‏ أَتَدْرُونَ أَيْنَ تَذْهَبُ هَذِهِ الشَّمْسُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنَّ هَذِهِ تَجْرِي حَتَّى تَنْتَهِيَ إِلَى مُسْتَقَرِّهَا تَحْتَ الْعَرْشِ فَتَخِرُّ سَاجِدَةً وَلاَ تَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يُقَالَ لَهَا ارْتَفِعِي ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ فَتَرْجِعُ فَتُصْبِحُ طَالِعَةً مِنْ مَطْلِعِهَا ثُمَّ تَجْرِي حَتَّى تَنْتَهِيَ إِلَى مُسْتَقَرِّهَا تَحْتَ الْعَرْشِ فَتَخِرُّ سَاجِدَةً وَلاَ تَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يُقَالَ لَهَا ارْتَفِعِي ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ فَتَرْجِعُ فَتُصْبِحُ طَالِعَةً مِنْ مَطْلِعِهَا ثُمَّ تَجْرِي لاَ يَسْتَنْكِرُ النَّاسُ مِنْهَا شَيْئًا حَتَّى تَنْتَهِيَ إِلَى مُسْتَقَرِّهَا ذَاكَ تَحْتَ الْعَرْشِ فَيُقَالُ لَهَا ارْتَفِعِي أَصْبِحِي طَالِعَةً مِنْ مَغْرِبِكِ فَتُصْبِحُ طَالِعَةً مِنْ مَغْرِبِهَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَتَدْرُونَ مَتَى ذَاكُمْ ذَاكَ حِينَ لاَ يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا ‏"‏ ‏.‏

আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন নবী (ﷺ) বলেন, “তোমরা কি জান, এ সূর্য কোথায় যায়?” সাহাবীগণ বললেন, “আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভাল জানেন।” তিনি বললেন, “এ সূর্য চলতে থাকে এবং (আল্লাহ তা’আলার) ‘আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থানস্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ‘উঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও!’ অনন্তর সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল দিয়েই উদিত হয়।তা আবার চলতে থাকে এবং ‘আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থানস্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ‘উঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও।’ তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল হয়েই সে উদিত হয়। এমনিভাবে চলতে থাকবে; মানুষ তার থেকে অস্বাভাবিক কিছু হতে দেখবে না।শেষে একদিন সূর্য যথারীতি ‘আরশের নিচে তার অবস্থানে যাবে। তাকে বলা হবে, ‘উঠ এবং অস্তাচল থেকে উদিত হও।’ অনন্তর সেদিন সূর্য পশ্চিমাকাশে উদিত হবে।” রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “(কুরআনের বাণী) “কোন দিন সে অবস্থা হবে তোমরা জান? সেদিন ঐ ব্যক্তির ঈমান কোন কাজে আসবে না, যে ব্যক্তি পূর্বে ঈমান আনেনি কিংবা যে ব্যক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করেনি”—(সূরা আল-আন’আম ৬ : ১৫৮)।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৯৬, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩০৭[৬৬] প্রত্যহ সূর্যের ‘আর্‌শের নীচে যাওয়া এবং সাজদায় পড়ে থাকার প্রকৃত তাৎপর্য আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভাল জানেন। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলোকে ইহা আমাদের জ্ঞানের অগম্য মনে হলেও ভবিষ্যৎ বিজ্ঞান হয়ত এর তাৎপর্য বুঝতে সক্ষম হবে। সাজদার দ্বারা আমরা যদি আনুগত্য অর্থ গ্রহণ করি তবে বলা যায় চন্দ্র-সূর্যসহ সৃষ্টির সব কিছুই আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মেনে চলে। সূর্যও তার নির্দিষ্ট কার্যক্রমে সর্বক্ষণ আল্লাহর নির্দেশ প্রার্থনা করে। (নাবাবী)

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেন, সূর্য কোথায় যায়। সাহাবীরা বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভালো জানেন। এরপর তিনি জানান, সূর্য চলতে থাকে এবং আরশের নিচে তার অবস্থানস্থলে গিয়ে সিজদা করে। তাকে আবার ফিরে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়, তাই সে নির্ধারিত উদয়স্থল দিয়ে উঠে। এভাবে চলতে থাকবে, যতক্ষণ না একদিন তাকে বলা হবে পশ্চিম দিক থেকে উঠতে। তখনই সেই অবস্থা হবে, যখন আগে ঈমান না আনা বা ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন না করা ব্যক্তির ঈমান কাজে আসবে না। এই হাদিসে সূর্যের গন্তব্য, আল্লাহর আদেশ এবং ঈমানের সময়সীমা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সূর্য আল্লাহর আদেশের অধীন চলে।
  • পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় কেয়ামতের বড় আলামত।
  • ঈমান ও নেক কাজের সুযোগ সময় থাকতে গ্রহণ করা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন