১৬/২৮. অধ্যায়ঃ
হাজীদের জন্য ত্বওয়াফে কুদূম, অতঃপর সা’ঈ মুস্তাহাব
আরাফার আগে বায়তুল্লাহ তাওয়াফের সুন্নাহ
সহিহ মুসলিম : ২৮৮৭
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮৮৭
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا عَبْثَرٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ وَبَرَةَ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ أَيَصْلُحُ لِي أَنْ أَطُوفَ بِالْبَيْتِ قَبْلَ أَنْ آتِيَ الْمَوْقِفَ . فَقَالَ نَعَمْ . فَقَالَ فَإِنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ لاَ تَطُفْ بِالْبَيْتِ حَتَّى تَأْتِيَ الْمَوْقِفَ . فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ فَقَدْ حَجَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَطَافَ بِالْبَيْتِ قَبْلَ أَنْ يَأْتِيَ الْمَوْقِفَ فَبِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَقُّ أَنْ تَأْخُذَ أَوْ بِقَوْلِ ابْنِ عَبَّاسٍ إِنْ كُنْتَ صَادِقًا
ওয়াবারাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ইবনু উমর (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তার নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, আল মাওকিফ (আরাফাহ)-এ যাবার পূর্বে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করা আমার জন্য সঠিক হবে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ।সে বলল, কিন্তু ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তুমি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করো না-যে পর্যন্ত না মাওকিফে আসো! ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হজ করেছেন এবং মাওকিফে যাবার পূর্বেই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেছেন। অতএব তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে বল, তোমার কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা মত আমল করা উচিত, না ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কথা মত?
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৮৬৩, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৮৬২
সহিহ মুসলিম হাদিস ২৮৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন ব্যক্তি ইবনু উমর রাঃ-কে জিজ্ঞেস করেন, আরাফার মাওকিফে যাওয়ার আগে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করা যাবে কি না। ইবনু উমর রাঃ সরাসরি বলেন, হ্যাঁ। প্রশ্নকারী তখন ইবনু আব্বাস রাঃ-এর ভিন্ন মত উল্লেখ করেন। উত্তরে ইবনু উমর রাঃ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর আমলকে দলিল হিসেবে পেশ করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم হজ করেছেন এবং মাওকিফে যাওয়ার আগেই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেছেন। তাই সত্যিকার অনুসরণ হবে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সুন্নাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এখানে মূল শিক্ষা হলো, হজের তাওয়াফ, আরাফার আগে তাওয়াফ এবং সুন্নাহ অনুসরণ—এসব বিষয়ে ব্যক্তির মতের চেয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল বেশি গ্রহণযোগ্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজের বিধানে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর আমলকে মূল দলিল হিসেবে নিতে হবে।
- আরাফায় যাওয়ার আগে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করার অনুমতি এই বর্ণনায় এসেছে।
- কোনো সাহাবীর মত নবীর সুন্নাহর বিপরীতে মনে হলে সুন্নাহকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।
- ধর্মীয় প্রশ্নে প্রমাণভিত্তিক উত্তর খোঁজা একজন মুমিনের সুন্দর অভ্যাস।
