১৬/২২. অধ্যায়ঃ
ইহরাম থেকে হালাল হওয়া রহিতকরণ এবং তা পূর্ণ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে
তামাত্তু হজে ইহরাম খোলার সঠিক শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ২৮৪৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮৪৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُنِيخٌ بِالْبَطْحَاءِ فَقَالَ لِي " أَحَجَجْتَ " . فَقُلْتُ نَعَمْ . فَقَالَ " بِمَ أَهْلَلْتَ " . قَالَ قُلْتُ لَبَّيْكَ بِإِهْلاَلٍ كَإِهْلاَلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ " فَقَدْ أَحْسَنْتَ طُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَأَحِلَّ " . قَالَ فَطُفْتُ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ أَتَيْتُ امْرَأَةً مِنْ بَنِي قَيْسٍ فَفَلَتْ رَأْسِي ثُمَّ أَهْلَلْتُ بِالْحَجِّ . قَالَ فَكُنْتُ أُفْتِي بِهِ النَّاسَ حَتَّى كَانَ فِي خِلاَفَةِ عُمَرَ - رضى الله عنه - فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا أَبَا مُوسَى - أَوْ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ - رُوَيْدَكَ بَعْضَ فُتْيَاكَ فَإِنَّكَ لاَ تَدْرِي مَا أَحْدَثَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فِي النُّسُكِ بَعْدَكَ . فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ كُنَّا أَفْتَيْنَاهُ فُتْيَا فَلْيَتَّئِدْ فَإِنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَادِمٌ عَلَيْكُمْ فَبِهِ فَائْتَمُّوا . قَالَ فَقَدِمَ عُمَرُ - رضى الله عنه - فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ إِنْ نَأْخُذْ بِكِتَابِ اللَّهِ فَإِنَّ كِتَابَ اللَّهِ يَأْمُرُ بِالتَّمَامِ وَإِنْ نَأْخُذْ بِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَحِلَّ حَتَّى بَلَغَ الْهَدْىُ مَحِلَّهُ .
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এলাম। তিনি 'বাথা' নামক স্থানে উট বসিয়ে যাত্রা বিরতি করছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি হজ্জের নিয়ত করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি কী ধরনের ইহরাম বেঁধেছ? তিনি বললেন, আমি বলেছি – লাব্বায়কা, নবী (ﷺ) যে হজ্জের ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তদ্রূপ ইহরাম বাঁধলাম। তিনি বললেন, তুমি ভালই করেছ। এখন বায়তুল্লাহর তওয়াফ কর এবং সাফা-মারওয়ার সাঈ কর, অতঃপর ইহরাম খুলে ফেল। আমি বায়তুল্লাহর তওয়াফ করলাম, সাফা-মারওয়ার সাঈ করলাম, অতঃপর কায়স গোত্রের এক স্ত্রীলোকের নিকট এলাম। সে আমার মাথার উকুন বেছে দিল। এরপর আমি হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। আমি লোকদেরকে এভাবেই ফাতওয়া দিতে থাকলাম উমর (রাঃ)-এর খিলাফত পর্যন্ত।এ সময় এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, হে আবু মূসা অথবা (বলল) আবদুল্লাহ ইবনু কায়স! আপনার কিছু ফাতওয়া আপাতত স্থগিত রাখুন। কারণ আমীরুল মুমিনীন (উমর) আপনার পরে হজ্জ সম্পর্কে যে নতুন বিধান প্রবর্তন করেছেন, তা আপনি জ্ঞাত নন। তখন আবু মূসা (রাঃ) বললেন, হে লোক সকল! আমি যাদের ফাতওয়া দিয়েছি (ইহরাম খোলা সম্পর্কে) তারা যেন অপেক্ষা করে। কারণ আমীরুল মুমিনীন অচিরেই তোমাদের নিকট আসছেন, অতএব তাঁর আনুগত্য করা তোমাদের কর্তব্য। রাবী বলেন, উমর (রাঃ) এলেন এবং আমি তাঁর সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করলাম। তিনি বললেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী চলি, তবে তা আমাদের নির্দেশ দেয় (হজ্জ ও উমরা) পূর্ণ করার। আমরা যদি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাতের উপর আমল করি, তবে কুরবানির পশু তার (কুরবানি) স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরাম খুলেননি।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৮২৪, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৮২২
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু মূসা (রাঃ)-এর হজের ইহরাম, তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সাঈ এবং ইহরাম খোলার বিষয়টি এসেছে। তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ইহরামের মতো ইহরাম বাঁধার কথা বলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাঈ করতে বলেন এবং এরপর ইহরাম খুলে ফেলতে নির্দেশ দেন। পরে আবু মূসা (রাঃ) এভাবে ফাতওয়া দিতেন। কিন্তু উমর (রাঃ)-এর সময়ে বিষয়টি নতুনভাবে আলোচনা হয়। উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কিতাব হজ ও উমরা পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়। আর নবী (صلى الله عليه وسلم) কুরবানির পশু কুরবানির স্থানে পৌঁছানোর আগে ইহরাম খোলেননি। তাই এই হাদিসে তামাত্তু হজ, কুরবানির পশু এবং ইহরাম খোলার নিয়ম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজের ইহরাম ও নিয়ত স্পষ্টভাবে জানা জরুরি।
- তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ হজ-উমরার গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
- কুরবানির পশু সঙ্গে থাকলে ইহরাম খোলার ক্ষেত্রে আলাদা বিধান আসে।
- ফাতওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশ জানা হলে সতর্ক থাকা উচিত।
