১৬/১৭. অধ্যায়ঃ
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে
তানঈম থেকে উমরা ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর সহজতা
সহিহ মুসলিম : ২৮২৯
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮২৯
وَحَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذٌ، - يَعْنِي ابْنَ هِشَامٍ - حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ مَطَرٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - فِي حَجَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَهَلَّتْ بِعُمْرَةٍ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ اللَّيْثِ وَزَادَ فِي الْحَدِيثِ قَالَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً سَهْلاً إِذَا هَوِيَتِ الشَّىْءَ تَابَعَهَا عَلَيْهِ فَأَرْسَلَهَا مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ فَأَهَلَّتْ بِعُمْرَةٍ مِنَ التَّنْعِيمِ . قَالَ مَطَرٌ قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ فَكَانَتْ عَائِشَةُ إِذَا حَجَّتْ صَنَعَتْ كَمَا صَنَعَتْ مَعَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর সাথে হজ্জ উপলক্ষে আয়েশা (রাঃ) উমরার ইহরাম বাঁধলেন... অবশিষ্ট অংশ পূর্বোক্ত লাইস (রহঃ)-এর হাদিসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে- জাবির (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন নমনীয় স্বভাবের। অতএব আয়েশা (রাঃ) যখনই কোন কিছুর আবদার ধরতেন, তিনি সে আবদার রক্ষা করতেন। তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে আবদুর রহমানের সাথে পাঠালেন এবং তিনি 'তানঈম' থেকে উমরার ইহরাম বাঁধলেন। মাতর (রহঃ) বলেন, আবু যুবাইর (রহঃ) বলেছেনঃ আয়েশা (রাঃ) যখনই হজ্জ করতেন তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে যেভাবে হজ্জ করেছেন তদানুরূপ করতেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৮০৬, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৮০৪
সহিহ মুসলিম হাদিস ২৮২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা রাঃ-এর হজ্জ ও উমরার ঘটনা আবার এসেছে, তবে এতে একটি বিশেষ দিক যোগ হয়েছে। জাবির রাঃ বলেন, রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ছিলেন নমনীয় স্বভাবের। আয়িশা রাঃ যখন কোনো বিষয়ের ইচ্ছা করতেন, তিনি তাঁর আবদার রক্ষা করতেন। হায়যের কারণে আয়িশা রাঃ প্রথমে উমরার তাওয়াফ করতে পারেননি। পরে নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে আবদুর রহমান রাঃ-এর সঙ্গে পাঠালেন এবং তিনি তানঈম থেকে উমরার ইহরাম বাঁধলেন। এই বর্ণনায় তানঈম থেকে উমরা করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে এসেছে। একই সঙ্গে বোঝা যায়, নবী صلى الله عليه وسلم মানুষের মানসিক কষ্ট বুঝতেন এবং সম্ভব হলে সহজ পথ দেখাতেন। আয়িশা রাঃ পরবর্তী সময়ে হজ্জ করলে এভাবেই করতেন বলে বর্ণনায় এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم মানুষের মনের কষ্ট বুঝে সহজভাবে পথ দেখাতেন।
- তানঈম থেকে উমরার ইহরাম বাঁধার ঘটনা এই হাদিসে এসেছে।
- হায়যের কারণে দেরি হলেও আমল পরে পূর্ণ করা হয়েছে।
- সাহাবীরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমলকে অনুসরণ করতেন।
