১৪/৩৫. অধ্যায়ঃ

সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফাযীলাত

কুরআন খতমে ভারসাম্য ও সীমা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৬২২

حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَوْلَى بَنِي زُهْرَةَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ - وَأَحْسِبُنِي قَدْ سَمِعْتُهُ أَنَا مِنْ أَبِي سَلَمَةَ، - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، - رضى الله عنهما - قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَاقْرَأْهُ فِي عِشْرِينَ لَيْلَةً ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَاقْرَأْهُ فِي سَبْعٍ وَلاَ تَزِدْ عَلَى ذَلِكَ ‏"‏ ‏.

’আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি প্রতি মাসে একবার করে সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ কর। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আরো বেশি পড়ার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি বিশ দিন অন্তর একবার কুরআন খতম কর। রাবী বলেন, আমি আবার আরজ করলাম, আমার আরো (বেশি পাঠ করার) শক্তি আছে। তিনি বললেন, তাহলে তুমি সাত দিন অন্তর একবার সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ কর। তবে এর চেয়ে বেশি (তিলাওয়াত) করো না। (কারণ এর চেয়ে কম সময়ের মধ্যে কুরআন খতম করলে কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা এবং এর মর্ম উপলব্ধি করার সুযোগ হয় না)।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৫৯৯, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৫৯৮[১১] এ বর্ণনাসমূহ থেকে জানা গেল যে, রমাযান মাসের এক রাত্রিতে পূর্ণাঙ্গ কুরআন মাজীদ খতম করার যে রীতি প্রচলিত আছে এবং কুরআনের হাফিযগণ এতে গর্ববোধ করেন তা সুন্নাতের খেলাফ এবং প্রকৃতপক্ষে বিদ’আত। আর বিশেষ করে এতে হাফিযদের এবং যে সকল ব্যক্তি এতে অংশগ্রহণ করে তাদের গর্ব করা যে, আমি একরাত্রিতে কুরআন খতম করেছি বা এতে অংশগ্রহণ করেছি এটা স্পষ্ট আহমকী ছাড়া আর কিছুই নয়।

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৬২২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলেন, প্রতি মাসে একবার কুরআন পূর্ণ পাঠ করতে। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, তিনি আরও বেশি পড়ার শক্তি রাখেন। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, বিশ দিনে একবার খতম করতে। তিনি আবার বেশি সামর্থ্যের কথা বললে রাসূল صلى الله عليه وسلم সাত দিনে একবার কুরআন খতম করতে বলেন এবং এর চেয়ে বেশি না করতে বলেন। বর্ণনার অনুবাদে কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এর চেয়ে কম সময়ে খতম করলে কুরআন নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ কমে যেতে পারে। এই হাদিস কুরআন তিলাওয়াতে আগ্রহের সঙ্গে বোঝা, ধীরতা ও ধারাবাহিকতার গুরুত্ব শেখায়। শুধু দ্রুত শেষ করা নয়, বরং বুঝে ও টেকসইভাবে পড়াই এখানে বড় শিক্ষা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কুরআন খতমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সময় রাখা উচিত।
  • বেশি পড়ার আগ্রহ ভালো, তবে সীমা মানাও জরুরি।
  • সাত দিনের কমে খতম না করার নির্দেশ এখানে এসেছে।
  • তিলাওয়াতের সঙ্গে চিন্তা ও বোঝার সুযোগ রাখা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন